মুসলিম সমাজে মসজিদের ইমামের মর্যাদা, যোগ্যতা ও সামাজিক দায়িত্ব

ঢাকা, ৩০ মার্চ – মুসলিম সমাজে মসজিদের ইমামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। মদিনার মসজিদে নববী থেকে ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেখানে মসজিদের মিম্বার থেকেই মহানবী (সা.) ও চার খলিফা মুসলিম জাতির নেতৃত্ব দিয়েছেন। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এর মতে, মহানবী (সা.) ও খুলাফায়ে রাশেদার ইমামতি শাসক ও বিচারকের মতো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব ছিল। কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইমামের সম্মান অকাট্যভাবে প্রমাণিত। ইমামতিকে মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের প্রার্থনায় অনুসরণযোগ্য ইমাম হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে।
মহানবী (সা.) নিজেও সাহাবিদের ইমামতি করার বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন। হাদিস অনুযায়ী, যারা মানুষের নামাজের ইমামতি করেন এবং মুসল্লিরা তাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকেন, পরকালে আল্লাহ তাদের বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করবেন। ইসলামী বিধান অনুযায়ী নামাজের ইমাম হওয়ার জন্য বেশ কিছু আবশ্যকীয় শর্ত রয়েছে। প্রথমত, তাকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে এবং ঈমানের পরিপন্থী ভ্রান্ত মতবাদে বিশ্বাসী হওয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া বাধ্যতামূলক, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে মাসআলা জানা সাপেক্ষে নাবালক নফল বা সুন্নত নামাজের ইমামতি করতে পারে। এছাড়া ইমামকে পুরুষ, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং শারীরিকভাবে সক্ষম হতে হবে।
ইমামের কিরাত বিশুদ্ধ হওয়া এবং দেহ ও পোশাক পবিত্র থাকা অন্যতম প্রধান শর্ত। ফকিহ ও প্রাজ্ঞ আলেমদের মতে, আবশ্যকীয় শর্তের পাশাপাশি ইমামের আরও কিছু যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। একজন ইমামকে অবশ্যই আলেম বা পর্যাপ্ত ধর্মীয় জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে, যেন তিনি সমাজের নানা সমস্যার সঠিক ইসলামী সমাধান দিতে পারেন। তাকে গভীরভাবে আল্লাহভীরু হতে হবে। পাশাপাশি নেতৃত্ব দানের পরিপক্বতার জন্য মধ্যবয়সী হওয়াকে উত্তম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসলামী জীবনব্যবস্থায় ইমামের দায়িত্ব শুধু নামাজ পড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
পুরো মুসলিম সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্ব প্রদান করা তার অন্যতম কাজ। সমাজের অবক্ষয় রোধে মানুষকে সুপথ দেখানো, ধর্মীয় জ্ঞানের বিস্তার ঘটানো এবং যেকোনো অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া ইমামের অপরিহার্য দায়িত্ব। মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং পারিবারিক বা সামাজিক কোন্দল নিরসনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। সর্বোপরি একজন আদর্শ ইমাম সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করবেন। মহানবী (সা.) এর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজের নেতা হিসেবে ইমামকে মূলত সেবকের ভূমিকাই পালন করতে হয়।
এস এম/ ৩০ মার্চ ২০২৬









