সংঘাতের মাঝেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক, ২৫ দিনে ভিড়েছে ৩০ জাহাজ

চট্টগ্রাম, ৩০ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা বিরাজ করলেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই সুরক্ষিত রয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজ প্রবেশ করছে। গত ২৫ দিনেই জ্বালানি তেল নিয়ে ৩০টি জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, গত ৩ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই ৩০টি জাহাজ বন্দরে পৌঁছায়। এর মধ্যে ২৭টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস সম্পন্ন হয়েছে এবং দুটি থেকে খালাস কার্যক্রম চলছে। নতুন করে যে ছয়টি জাহাজ আসার অপেক্ষায় রয়েছে তার মধ্যে তিনটিতে এলএনজি, দুটিতে গ্যাস অয়েল এবং একটিতে এলপিজি থাকবে।
চলমান এই বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ইরান বাংলাদেশসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তান এই সুবিধা পাচ্ছে।
বন্দর সূত্র জানায়, মার্চ মাসের শুরু থেকে আসা জাহাজগুলোর মধ্যে কাতার ও অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি এবং মালয়েশিয়া, ওমান, ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে এলপিজি এসেছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে গ্যাস অয়েল এবং সিঙ্গাপুর থেকে হাই সালফার ফুয়েল আমদানি করা হয়েছে। তবে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল আমদানি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চ মাসে নির্ধারিত দুটি জাহাজের একটিও এখনও দেশে পৌঁছায়নি। সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি জানিয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত তেল সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
এনএন/ ৩০ মার্চ ২০২৬









