হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের নতুন শর্ত ও টোল আদায়ের উদ্যোগ

তেহরান, ২৮ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত আরোপ করেছে ইরান। উপসাগরীয় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অবরোধ এবং টোল আদায়ের সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক এই জলপথ এখন চরম উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের জন্য একটি নতুন আইন পাসের উদ্যোগ নিয়েছে। তাসনিম ও ফার্স সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী পার্লামেন্টের সিভিল অ্যাফেয়ার্স কমিটি ইতিমধ্যে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে যা শিগগিরই চূড়ান্ত হবে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি অন্যান্য বাণিজ্যিক করিডরের মতো হরমুজ প্রণালিতেও নিরাপত্তা প্রদানের বিনিময়ে শুল্ক আদায় করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আইন পাসের আগেই গত দুই সপ্তাহে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি কার্যত একটি টোল ব্যবস্থা চালু করেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা লয়েডস লিস্ট।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর আইআরজিসি এই প্রণালি দিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রণালির দুই পাশে প্রায় দুই হাজার জাহাজ আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা। মেরিটাইম গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে দীর্ঘ বিকল্প পথের বদলে অধিকাংশ জাহাজ অপেক্ষা করাকেই নিরাপদ মনে করছে। গত দুই সপ্তাহে কেবল আইআরজিসির অনুমোদন পাওয়া ২৬টি জাহাজ নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে।
চীন ভারত মালয়েশিয়া মিশর ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশের জাহাজ শর্তসাপেক্ষে পারাপারের সুযোগ পেয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির প্রধান সুলতান আল জাবের ইরানের এই পদক্ষেপকে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ আখ্যা দিয়েছেন। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও ইরান দাবি করেছে তারা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর না করায় তা মানতে বাধ্য নয়।
এস এম/ ২৮ মার্চ ২০২৬









