উত্তর আমেরিকা

ইরানের আরও সাড়ে তিন হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুশিয়ারি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন, ২৮ মার্চ – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত এখনই শেষ হচ্ছে না। শুক্রবার ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আয়োজিত এক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। দেশটির ভেতরে এখনো অন্তত ৩ হাজার ৫৫৪টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু মার্কিন হামলার তালিকায় বাকি আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানার পরই কেবল যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পূর্বে কয়েকবার এই যুদ্ধে জয়ের দাবি করলেও মিয়ামির ভাষণে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো স্বীকার করেন যে বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে একই সঙ্গে তিনি খুব দ্রুতই এই যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত পরিণতি টানার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সংগতি রেখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটবে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি সেভেন জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন তার নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনে সঠিক পথেই রয়েছে।

তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন যে ইরানে কোনো ধরনের স্থলবাহিনী না পাঠিয়ে কেবল আকাশপথ ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন করা সম্ভব হবে। রুবিওর এই মন্তব্য মূলত তেহরানের ওপর ক্রমাগত বিমান হামলা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের ধারাবাহিকতাকে সমর্থন করে। গত এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় এটি তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে ওয়াশিংটন যুদ্ধের একটি নির্দিষ্ট তালিকা ধরে কাজ করছে। বিপুল সংখ্যক লক্ষ্যবস্তু বাকি থাকার অর্থ হলো ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর একটি বড় অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে।

এগুলো ধ্বংস করাকে ট্রাম্প তার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। সরাসরি স্থল অভিযান এড়িয়ে যাওয়ার কৌশলের পেছনে মার্কিন সেনাদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যবর্তী এই সংঘাত বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার মুহূর্ত তৈরি করেছে। ট্রাম্প একদিকে যেমন দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার কথা বলছেন, অন্যদিকে হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

এটি অনেকটা দ্বিমুখী কৌশলের ইঙ্গিত দেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য সত্ত্বেও যুদ্ধের ময়দানে ইরানি বাহিনীর পাল্টা প্রতিরোধ আগামী দিনগুলোতে সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণ করবে। আপাতত নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলো গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি আলোচনার কোনো পথ সহজ হচ্ছে না বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে।

এস এম/ ২৮ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language