মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কায় ১০ লাখ সেনা প্রস্তুত করছে ইরান

তেহরান, ২৭ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই ইরান দশ লাখেরও বেশি যোদ্ধা প্রস্তুত করছে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি, বাসিজ বাহিনী এবং নিয়মিত সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই বিশাল সংখ্যক যোদ্ধাকে সংগঠিত করা হচ্ছে।দেশজুড়ে নিয়োগ কেন্দ্রগুলোতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে।

সামরিক সূত্রগুলো বলছে এই বাহিনী সম্ভাব্য যেকোনো যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং ইরানের মাটিতে শত্রুপক্ষের জন্য চরম বিপর্যয়ের নরক তৈরি করতে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত বিরাশিতম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনারা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের পথে রয়েছে। তারা খুব শিগগিরই সেখানে অবস্থানরত হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনার সঙ্গে যোগ দেবে। তবে কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন যে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে। কিন্তু তেহরান প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন সেনারা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

এর মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ট্রাম্পের কথিত রহস্যময় উপহার। তিনি দাবি করেছেন ইরান সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে দশটি তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। ট্রাম্পের মতে প্রথমে আটটি জাহাজের কথা বলা হলেও পরে আরও দুটি যোগ করা হয় যেগুলোকে তিনি ক্ষমা চাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই জাহাজগুলোর কয়েকটিতে পাকিস্তানের পতাকা ছিল বলেও তিনি জানান।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে রেখেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন সন্দেহভাজন জাহাজগুলোকে আটকে দেওয়া হলেও শত্রুভাবাপন্ন নয় এমন কিছু জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক চাপ তৈরি করছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। এই অবস্থায় মার্কিন সেনাবাহিনীকে পুরোনো ও কম নির্ভুল গোলাবারুদ ব্যবহার করতে হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী সংঘাতের প্রথম ষোল দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রায় ছাব্বিশ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এগারো হাজার গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। চরম উত্তেজনার মধ্যেও পরোক্ষভাবে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদিও প্রকাশ্যে দুই দেশই একে অপরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথা বলছে।

বিশ্লেষকদের মতে একদিকে যুদ্ধের জোরালো প্রস্তুতি এবং অন্যদিকে গোপন আলোচনা এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যেকোনো সময় এটি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনএন/ ২৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language