মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষতি ৮০০ মিলিয়ন ডলার

তেহরান, ২৩ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় বিপুল আর্থিক ও কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। বিবিসি এবং ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক সিএসআইএসের এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের প্রথম দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সামরিক সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান এই প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালায়। পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন ক্ষতির পরিমাণ অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের প্রধান লক্ষ্য ছিল জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে থাকা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড সিস্টেমের রাডার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি কুয়েত, কাতার এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির অবকাঠামো ধ্বংসে আরও ৩১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যন্ত্রাংশ এনে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করতে হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়েছে। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংসের পথে সফলভাবে অগ্রসর হচ্ছেন। তবে পরিসংখ্যান বলছে, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসহ প্রায় তিন হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। পেন্টাগন ও সিএসআইএসের তথ্যমতে, যুদ্ধের প্রথম ১২ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসের কাছে আরও ২০০ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধকালীন তহবিলের আবেদন জানিয়েছেন। জ্বালানি সংকট এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী পাঠাবে কি না তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
এস এম/ ২৩ মার্চ ২০২৬









