ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি: পেন্টাগন

ওয়াশিংটন, ১৯ মার্চ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন যে, ইরানের এখনো উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা অবশিষ্ট রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উপস্থিতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের হামলার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জেনারেল কেইন জানান, ইরান এই যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সতর্ক ও আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন বাহিনী শত্রুদের খুঁজে বের করে শনাক্ত করছে এবং কার্যকরভাবে ধ্বংস করছে। তবে এরপরেও ইরান তাদের কিছু সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে। সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করে অবিরাম অভিযান পরিচালনা করছে।
ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য মার্কিন বাহিনী পাঁচ হাজার পাউন্ড বা দুই হাজার ২৭০ কেজি ওজনের পেনিট্রেটিভ অস্ত্র ব্যবহার করছে। এই অস্ত্রগুলো কংক্রিট ভেদ করে গভীরে প্রবেশ করার পর বিস্ফোরিত হওয়ার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য প্রদান করে তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী আরও পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে এবং একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোনগুলো ধ্বংস করছে। এ টেন ওয়ারথগ বিমান বর্তমানে দক্ষিণ ইরানে অভিযানে অংশগ্রহণ করছে এবং হরমুজ প্রণালিতে দ্রুতগামী নৌযানগুলোতে আঘাত হানছে। পাশাপাশি এএইচ সিক্সটি ফোর অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলোও দক্ষিণ ইরানে ড্রোন ধ্বংস করার অভিযানে যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইরাকে অবস্থানরত ইরান সমর্থিত বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে হামলা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্যের দিকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সংঘাত ঠিক কবে শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করতে রাজি হননি।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা এখনই কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে চান না। তিনি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্যগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ব্যবস্থা ও নৌবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং তারা যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
এখন পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ইরানের সাত হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এনএন/ ১৯ মার্চ ২০২৬









