জাতীয়

হরমুজ প্রণালিতে আটকা ৯ জাহাজ, অনিশ্চয়তায় ১৪৬ বাংলাদেশি নাবিক

ঢাকা, ১৯ মার্চ – হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলো এখনও লাল ঝুঁকি বা রেড জোন অতিক্রম করতে পারছে না। বর্তমানে এই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চারটি বাংলাদেশি জাহাজ অবস্থান করছে, যেগুলোর সব নাবিক ও ক্রু বাংলাদেশি নাগরিক। এছাড়া ওই এলাকায় থাকা আরও পাঁচটি বিদেশি জাহাজেও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাবিক কাজ করছেন। সব মিলিয়ে মোট ৯টি জাহাজে ১৪৬ জন বাংলাদেশি নাবিক আটকা পড়েছেন।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন বা বিএসসি এই জলপথ নিরাপদ করার লক্ষ্যে পাঁচ দিন আগে নৌপরিবহন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠালেও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ব্যতীত অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশি জাহাজগুলো এই প্রণালি পার হতে ব্যর্থ হচ্ছে।

পূর্বনির্ধারিত বুকিং থাকা লিব্রেথা, ওয়াবি আলসেল এবং বিএসসির নিজস্ব জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে না। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জাহাজগুলো নিরাপদে পার করার জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৬টি জ্বালানি তেল এবং ৯টি এলএনজি বহনকারী জাহাজ পৌঁছানোর কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মাত্র ১০টি তেলের জাহাজ এবং ৪টি এলএনজি জাহাজ পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। আগামী ১৪, ১৮, ২৬ ও ২৭ মার্চ তারিখে আরও চারটি এলএনজি জাহাজের আসার কথা থাকলেও সেগুলোর পৌঁছানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এই চারটি জাহাজে মোট দুই লাখ ৪৫ হাজার টন এলএনজি দেশে আসার কথা ছিল। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি নিরাপদে অতিক্রম করে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পেরেছিল। আগামী ২০ মার্চ সোনানগাল বেনগুয়েল নামের অপর একটি জাহাজ ৫৮ হাজার টন এলএনজি নিয়ে নোঙর করার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশি নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাহাজ চলাচলের বর্তমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এনএন/ ১৯ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language