ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত মোজতবা খামেনি, গোপন অস্ত্রোপচার মস্কোয়

তেহরান, ১৬ মার্চ – ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনিকে জরুরি ভিত্তিতে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কুয়েতি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী তার পায়ে অস্ত্রোপচারের জন্য মস্কোতে এই গোপন মিশন পরিচালিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। এরপর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় এই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুরুতে তাকে তেহরানের সিনা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তখন থেকেই তিনি কোমায় আছেন বলে দাবি করা হয়েছিল। কুয়েতের সংবাদমাধ্যম আল জারিদা তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ উদ্যোগে তাকে রাশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে একটি রুশ সামরিক বিমানে করে তাকে মস্কো পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আল জারিদার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইল জানায় রাশিয়ার একটি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে মোজতবা খামেনির পায়ে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
ইরানের এক উচ্চপদস্থ সূত্রের মতে যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন এপিক ফিউরি চলাকালীন তিনি আহত হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা হামলার কারণে ইরানে তার পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানকে দেওয়া ইরানের আরেকটি সূত্রের তথ্যানুযায়ী মোজতবা খামেনির এক বা একাধিক পা কেটে ফেলতে হতে পারে। হামলায় তার যকৃত ও পাকস্থলীও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি সম্ভবত কোমায় রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র আরো জানায় শীর্ষ ট্রমা সার্জন মোহাম্মদ রেজা জাফারগান্দি তার চিকিৎসার দায়িত্বে আছেন। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন এবং সম্ভবত অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা তার আহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী মোজতবা খামেনি বর্তমানে কোথায় আছেন বা তিনি জীবিত নাকি মৃত সেই বিষয়ে অধিকাংশ কমান্ডারের কাছেই কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
এস এম/ ১৬ মার্চ ২০২৬









