তৃতীয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ, খারাগ দ্বীপে মার্কিন হামলা

ওয়াশিংটন, ১৪ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খারাগ দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর হামলার পর এই সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তেল অবকাঠামোতে আঘাত করা হয়নি। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তেল স্থাপনাগুলোই পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে পুরো অঞ্চল জুড়ে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট তেল অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত করা হবে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানাতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হামলায় আহত হয়েছেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের তথ্যের জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প খারাগ দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে একে ইরানের মুকুট মণি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ৪৪৪ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলেও এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে। ইরান পুরো অঞ্চল জুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরব ও কাতার সফলভাবে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। বাহরাইনে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ওমানে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত করতে ওমানের সুলতান এবং কাতারের আমির টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বাহরাইন ও সৌদি আরবের ফর্মুলা ওয়ান রেস বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানি হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দশ হাজার ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি মোতায়েন করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা শত্রুদের প্রতি কোনো দয়া দেখাবে না। এদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানে প্রায় সাত হাজার ৬০০টি এবং লেবাননে এক হাজার ১০০টি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের তেল আবিবেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২ মার্চ থেকে অন্তত ৭৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় ১২ জন চিকিৎসাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের ঘাঁটিতেও ইসরায়েলি গোলা আঘাত হেনেছে। হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের হেলিপ্যাডেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কানাডা রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় বিমান সংস্থাগুলো টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় ভারত ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে এড়িয়ে সরাসরি ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
এস এম/ ১৪ মার্চ ২০২৬









