তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার কড়া প্রতিবাদ চীনের

বেইজিং, ১৪ মার্চ – ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। তাইওয়ানের কাছে নতুন করে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এক চীন নীতি এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তিনটি যৌথ ঘোষণাপত্র কঠোরভাবে মেনে চলা। একই সঙ্গে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের পর তাইওয়ানের জন্য উন্নত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রসহ নতুন একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদিত হতে পারে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় গুয়ো জিয়াকুন এই মন্তব্য করেন। তিনি ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীল উন্নয়ন এবং তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি বজায় রাখতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর চলতি মাসের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো চীন সফর করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে গত ডিসেম্বরে তার প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়।
এর জবাবে চীন কয়েকটি মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানি ও তাদের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। চীন শুরু থেকেই তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে ১৯৪৯ সাল থেকে তাইওয়ান কার্যত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে। এদিকে পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে তাইওয়ান, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ইরান পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ায় এই দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিউল।
এস এম/ ১৪ মার্চ ২০২৬









