যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের ভিয়েত কং কৌশল: কাটজম্যানের বিশ্লেষণ

তেহরান, ১৩ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ১৪তম দিনে যুদ্ধের ধরন নিয়ে নতুন একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ পেয়েছে। সুফান গ্রুপের সিনিয়র ফেলো কেনেথ কাটজম্যান মন্তব্য করেছেন, সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ না হওয়ায় ইরান ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। তার মতে, ইরানের এই রণকৌশলের সাথে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ভিয়েত কং যোদ্ধাদের ব্যবহৃত কৌশলের যথেষ্ট মিল রয়েছে। ফ্লোরিডা থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। কাটজম্যান জানান, ইরানের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জনসমর্থন কমিয়ে আনা।
একই সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ও হতাহতের খবর ছড়িয়ে মার্কিন নাগরিকদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করাও এই কৌশলের অংশ। তার মতে, ইরান এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করে আংশিকভাবে সফলও হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট সংকট যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাটজম্যান উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে মতবিরোধ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানালেও ট্রেজারি সেক্রেটারি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে জাহাজ চলাচলে সরাসরি সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী এখনো এই ধরনের এসকর্ট বা পাহারা মিশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। মাসের শেষের আগে এই প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কাটজম্যান মনে করেন, এসকর্ট মিশন ছাড়াও হরমুজ প্রণালী চালু রাখার বিকল্প উপায় রয়েছে।
প্রণালীতে হুমকি সৃষ্টিকারী বন্দর বা নৌযানগুলোর ওপর বিমান হামলা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এছাড়া উপকূল বরাবর স্থাপিত ক্রুজ মিসাইল ব্যাটারি বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত এনেও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, পাহারা মিশন ছাড়া কিছু অগ্রগতি অর্জন করা গেলেও শিপিং কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত এসকর্ট মিশনের প্রয়োজন হতে পারে। সম্প্রতি ইরান পানির নিচে ড্রোন এবং টর্পেডো প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি করেছে। তবে কাটজম্যান এসব দাবির সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইরান অতীতেও হাইপারসনিক মিসাইল থাকার দাবি করেছিল যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
এস এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬









