কিশোরগঞ্জ

পাকুন্দিয়ায় আলুর বাম্পার ফলনেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষকরা

কিশোরগঞ্জ, ৯ মার্চ – কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। গত মৌসুমের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে ঋণ এবং ধারদেনা করে আলু চাষ করে তারা এখন মারাত্মক বিপাকে অবস্থান করছেন।

কৃষকরা জানিয়েছেন, এক বিঘা জমিতে আলু আবাদ করতে রোপণ, নিরানি, সার, কীটনাশক, সেচ এবং উত্তোলন বাবদ সব মিলিয়ে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন পাওয়া গেলে এক বিঘায় ৭৫ থেকে ৮০ মণ আলু উৎপাদিত হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দাম প্রতি কেজি আট থেকে দশ টাকার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে মোট বিক্রি দাঁড়ায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার মতো।

এতে করে হিসাবের খাতায় কৃষকদের বিঘাপ্রতি দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের আলুচাষি মো. মিনহাজ উদ্দীন জানান, এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও বাজারে ভালো দাম না থাকায় তার ব্যাপক লোকসান হবে।

গত বছরও তিনি লোকসানের শিকার হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে সুখিয়া এলাকার আলুচাষি হামিদুর রহমান টিটু বলেন, তিনি পাঁচ একর জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হলেও বাজারে উপযুক্ত মূল্য নেই। সব খরচ বাদ দিলে তার বিঘাপ্রতি দশ থেকে বারো হাজার টাকা লোকসান হবে। গত বছরও আলু চাষ করে তিনি লোকসানের মুখে পড়েছিলেন বলে হতাশা প্রকাশ করেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলার একটি পৌরসভা এবং নয়টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে মোট এক হাজার ৩৮৪ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে।

কৃষকরা এবার ডায়মন্ড, এলুয়েড, কার্ডিনাল, এস্টোরিজ, সানসাইন এবং বারি আলু ৯০ জাতের আলুর আবাদ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর ই আলম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আলুর অভাবনীয় ফলন হয়েছে।

কিন্তু বাজারে আলুর দাম কম থাকায় এমন ফলন পেয়েও কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়েছেন যার নেতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক কৃষিতেও পড়তে পারে।

তিনি আরও যোগ করেন, উপজেলায় আলুভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা সম্ভব হলে স্থানীয়ভাবে নতুন বাজার সৃষ্টি হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্যমূল্য পেতে সক্ষম হবেন।

এম ম/ ৯ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language