জাতীয়

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বড় ধাক্কা খেলো বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি

ঢাকা, ৯ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলের আকাশপথ ও বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় প্রধান বাজারগুলোতে বাংলাদেশ থেকে সবজি পাঠানো প্রায় বন্ধ। ফলে রপ্তানিকারক থেকে শুরু করে কৃষক পর্যন্ত সবাই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রপ্তানিকারকদের তথ্যমতে গত মাসের ২৮ তারিখ রাত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ দেশে সবজি পাঠানো কার্যত স্থবির হয়ে আছে। বাংলাদেশের সবজি রপ্তানির একটি বড় অংশ যায় সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েতে।

পচনশীল হওয়ায় আলু ছাড়া অন্যান্য সবজি কার্গো বিমানে পরিবহন করতে হয়। কিন্তু নিয়মিত কার্গো ফ্লাইট না থাকায় বর্তমানে পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মনসুর জানান বাংলাদেশের মোট সবজি রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যে এবং ৪০ শতাংশ ইউরোপে যায়। ইউরোপে পাঠানো পণ্যের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ট্রানজিট নেয় বলে সেখানেও রপ্তানি কমে গেছে। বর্তমানে মোট রপ্তানির মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কার্যক্রম চালু আছে। কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহজাহান উল্লেখ করেন আকাশপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের পুরো সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

এই সংকটের সুযোগে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজার দখলের চেষ্টা করছে। ভারতের মুম্বাই বন্দর থেকে সমুদ্রপথে মাত্র তিন দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সবজি পৌঁছানো সম্ভব হলেও বাংলাদেশের সেই সক্ষমতা এখনো গড়ে ওঠেনি। এছাড়া ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে বিমানযোগে সবজি পাঠাতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেশি ভাড়া গুণতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সবজি রপ্তানিতে নীতিমালা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। কার্গো ভাড়ার ওপর সরকারের নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তা রপ্তানিকারকদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী গত ২০২৪ ২৫ অর্থবছরে দেশের সবজি রপ্তানি ৩৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে। ২০২৩ ২৪ অর্থবছরে সবজি রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ১১ কোটি ২৪ লাখ ডলারের যা ২০২৪ ২৫ অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় প্রায় আট কোটি ১১ লাখ ডলারে। এর পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞ মজিবুল হক মনে করেন সমুদ্রপথে সবজি পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কোল্ড চেইন বা বিশেষ কনটেইনার সুবিধা দেশে নেই। তিনি সবজি রপ্তানি বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ তৈরি এবং শুধু কাঁচা সবজির ওপর নির্ভর না করে হিমায়িত ও রেডি টু কুক পণ্যের বাজার ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। সাবেক কৃষিসচিব আনোয়ার ফারুকও সমুদ্রপথে সবজি পাঠাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের মতো বিকল্প বাজার খোঁজারও পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এম/ ৯ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language