জলাশয়ের দক্ষ ডুবুরি পানকৌড়ি এখন অস্তিত্ব সংকটে

ঢাকা, ৭ মার্চ – জলাশয়ের সঙ্গে যার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, সেই পাখিটির নাম পানকৌড়ি। নদী, নালা, খাল-বিল কিংবা হাওর-বাওর অর্থাৎ সব ধরনের জলাশয়েই এই পাখির অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। পানকৌড়ি দীর্ঘ সময় জলে কাটাতে পছন্দ করে এবং দক্ষ ডুবুরির মতো পানির গভীরে গিয়ে মাছ শিকার করে। মাছই এদের প্রধান খাদ্য। এছাড়া জলের ওপর ভেসে থাকা বা ডানা মেলে রোদ পোহানো এদের প্রিয় অভ্যাসের মধ্যে অন্যতম। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে জলের ধারে গাছের ডালে বসে সূর্যের তাপে ভেজা শরীর শুকিয়ে নিতে দেখা যায় এদের।
পাখি বিশারদদের মতে, পানকৌড়ির বৈজ্ঞানিক নাম ফ্যালাক্রোকোরাসিডে এবং ইংরেজি নাম করমোরেন্ট অ্যান্ড শ্যাগ। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ প্রজাতির পানকৌড়ি রয়েছে। এদের শরীর সাধারণত কালচে বা গাঢ় বাদামি রঙের হয়ে থাকে যা দূর থেকে কালো দেখায়। এরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে বড় গাছে বাসা বাঁধে। বর্ষা ও শরৎকাল এদের প্রজনন মৌসুম। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাসে এরা ডিম পাড়ে এবং তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে ছানা ফোটে। একসময় গ্রামবাংলার জলাশয়গুলোতে অহরহ পানকৌড়ির দেখা মিললেও বর্তমানে সেই দৃশ্য অনেকটাই বিরল।
এ কারণে বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে পানকৌড়িকে সংরক্ষিত পাখি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পানকৌড়ির সংখ্যা হ্রাসের কারণ সম্পর্কে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের গবেষণা কর্মকর্তা শিহাব খালেদীন জানান, জলাভূমির অবক্ষয়, বাসা বাঁধার উপযোগী গাছ নিধন, শিকার, মৎস্যসম্পদ হ্রাস, দূষণ এবং কলোনি বা বিচরণস্থলে বিশৃঙ্খলাই এর মূল কারণ। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পানকৌড়িসহ সব ধরনের পাখি সংরক্ষণে সবার এগিয়ে আসা জরুরি।
এস এম/ ৭ মার্চ ২০২৬



