মধ্যপ্রাচ্য

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ভেদ করতে সক্ষম ইরানের ফাত্তাহ-২ মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন

তেহরান, ৫ মার্চ – ইরানের তৈরি ফাত্তাহ ২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমান বিশ্বের প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আটকানো প্রায় অসম্ভব বলে দাবি করেছে প্রখ্যাত সামরিক সাময়িকী মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন।

সাময়িকীটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে গত ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই মডেলের অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণেই ফাত্তাহ ২ এতটা কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এই প্রযুক্তির সুবাদে ক্ষেপণাস্ত্রটি বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়তে পারে এবং প্রয়োজনে মুহূর্তেই গতিপথ পরিবর্তন করে কৌশলগত ম্যানুভার চালাতে সক্ষম। ফলে প্রচলিত রাডার বা ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার জন্য এটি শনাক্ত ও প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউভাল বাসেস্কির একটি বক্তব্যও প্রতিবেদনটিতে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি গত আগস্টে স্বীকার করেছিলেন যে বর্তমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো মূলত এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে গিয়ে তাকে ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু ফাত্তাহ ২ এর মতো শব্দের গতির দশগুণ বা ম্যাক ১০ গতিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শব্দের প্রায় ৩০ গুণ গতিতে ছুটতে হবে। বায়ুমণ্ডলের তীব্র ঘর্ষণের কারণে বর্তমানে এমন প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন এবং প্রায় অসম্ভব বলেই তিনি মন্তব্য করেন।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহৃত বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো আগেই ইরানের পুরোনো মডেলের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল। এর মধ্যে নতুন হাইপারসনিক প্রযুক্তির সংযোজন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

যদিও ইসরায়েল এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ জোন ডিফেন্স মডেল তৈরির পরিকল্পনা করছে তবে এটি বাস্তবায়নে কয়েক দশক সময় এবং কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে ইরানের ফাত্তাহ ২ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো পর্যন্ত এমন সক্ষমতা ধরে রেখেছে যা ইসরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রাচীর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

এম ম/ ৫ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language