জাতীয়

আয় কম অথচ ব্যয় লাগামহীন, বাড়ছে ঋণের বোঝা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি

ঢাকা, ১ মার্চ – সরকারের আয়ের তুলনায় ব্যয় অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক ঋণের চাপ তীব্র হচ্ছে। রাজস্ব আয়ে ধীরগতি থাকলেও বড় প্রকল্পগুলোতে বিপুল অর্থ ব্যয় অব্যাহত রয়েছে, যা অর্থনৈতিক সূচকগুলোর জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণ-রাজস্ব অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৬.৯২ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ১৬.৫৩ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ১৮ শতাংশকে সতর্কসীমা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, ফলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক দিকে মোড় নিচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় ঋণের পরিমাণও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অনুপাত ১৮.৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৭.২৭৯ বিলিয়ন ডলারে। এক বছরের ব্যবধানে এই ঋণ বেড়েছে প্রায় ৮.৪৫৭ বিলিয়ন ডলার। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ঋণের বোঝা আরও স্ফীত হয়েছে। ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুদ ও আসল পরিশোধের চাপও বাড়ছে। বর্তমানে ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে মোট ঋণ অনুপাত ৮.১২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক গবেষকদের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল ২৩.৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে ১১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ গত দেড় দশকে ঋণের পরিমাণ চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে আয়কর, আমদানি ও ভ্যাট—এই তিন খাতেই বড় ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।

আইএমএফের তথ্যমতে, ২০৩০ সাল নাগাদ ঋণ-জিডিপি অনুপাত ১১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে, যা ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় বাধা। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী বাজেটে এই অনুপাত ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে প্রায় ৩৫ শতাংশ ব্যয় অপচয় হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেছেন, ঋণ পরিশোধের চাপ আগামীতে আরও বাড়বে। রাজস্ব আদায় ও বৈদেশিক মুদ্রার জোগান নিশ্চিত না করলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই ঋণের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এস এম/ ১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language