সিয়াম কেবল উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি ও সংযম অর্জনের মাধ্যম

ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি – আত্মশুদ্ধি, আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনই সিয়াম বা রোজার মূল লক্ষ্য। প্রতি বছর রমজান মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে সিয়াম পালন করেন। তবে কেবল না খেয়ে থাকার নামই সিয়াম নয় বরং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আত্মিক ও নৈতিক প্রশিক্ষণ। বর্তমান সময়ে অনেকের কাছে রোজা একটি প্রথাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে যেখানে সিয়ামের মূল শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন এমন অনেক রোজাদার আছেন যাদের রোজা পালনের বিনিময়ে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। অর্থাৎ রোজা রেখেও যারা মিথ্যা কথা, গিবত, মানুষকে কষ্ট দেওয়া ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকেন না তাদের দিনভর উপবাস বস্তুত খুব বেশি উপকার বয়ে আনে না। অন্য এক হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা বলা ও পাপ কাজ ছাড়তে পারল না তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। মহান আল্লাহ রমজান মাসকে জীবন পরিবর্তনের বিশেষ সুযোগ হিসেবে দান করেছেন।
সাহাবী জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেছেন রোজা রাখার সময় চোখ, কান ও জিহ্বাকেও রোজা রাখতে হবে। অর্থাৎ হারাম দৃশ্য দেখা, মিথ্যা বা কটূক্তি করা এবং গিবত শোনা থেকে বিরত থাকাই সিয়ামের অপরিহার্য অংশ। সিয়াম শব্দের অর্থই হলো বিরত থাকা। মানুষের অপরাধপ্রবণতার মূলে থাকা ক্ষুণ্নিবৃত্তি ও যৌনবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করাই রোজার মূল দর্শন। নিজের প্রবল ইচ্ছা ও ক্ষুধাকে আল্লাহর ভয়ে দমন করার নামই আত্মনিয়ন্ত্রণ।
নবীজি (সা.) সিয়ামকে ঢাল হিসেবে অভিহিত করেছেন। ঢাল যেমন যুদ্ধে শত্রুর আঘাত থেকে রক্ষা করে তেমনি সিয়াম মানুষকে কুপ্রবৃত্তির তাড়না থেকে বাঁচায়। রোজার মাধ্যমে অর্জিত এই আত্মনিয়ন্ত্রণ মানুষকে বছরের বাকি সময়ও পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার শক্তি জোগায়। তাই রমজান যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা সামাজিক আচার না হয় বরং তা যেন ঘৃণা, হিংসা, অহংকার ও অন্যের সম্পদ গ্রাসের মানসিকতা দূর করে আত্মশুদ্ধির মাধ্যম হয়ে ওঠে। রাসুল (সা.) ওই ব্যক্তির ধ্বংস কামনা করেছেন যে রমজান পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারেনি।
এস এম/ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









