সীমান্তে পাকিস্তান ও আফগান বাহিনীর মধ্যে ফের গুলি বিনিময়, বাড়ছে উত্তেজনা

পাকিস্তান, ২৫ ফেব্রুয়ারি – পাকিস্তান ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে মঙ্গলবার নতুন করে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তে সংঘর্ষের সূত্রপাতের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছে।
আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক পাকিস্তানি বিমান হামলার জেরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির মধ্যেই এই নতুন সংঘাতের খবর পাওয়া গেল। দুই হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শনিবার ও রবিবার পাকিস্তানের বিমান হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
গত অক্টোবরে বড় ধরণের সংঘাতের পর সীমান্তে যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় ছিল তা এখন হুমকির মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি অভিযোগ করেছেন যে আফগান তালেবান তোরখাম ও তিরাহ সীমান্ত এলাকায় বিনা উস্কানিতে গুলি বর্ষণ শুরু করে। তিনি জানান পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিস্থিতির জবাব দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো উস্কানি দেওয়া হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।
অন্যদিকে আফগান কর্মকর্তারা দাবি করেছেন পাকিস্তানি বাহিনীই প্রথমে গুলি চালিয়েছে এবং আফগান সেনারা পরবর্তীতে তার জবাব দিয়েছে। নাঙ্গারহার প্রদেশের কর্মকর্তা জাবিহুল্লাহ নুরানি জানান নাজিয়ান জেলার শাহকোট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে এবং এতে কোনো আফগান নাগরিক হতাহত হয়নি। আফগান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মাওলাভি ওয়াহিদুল্লাহ বলেছেন সীমান্তরক্ষীরা আচিন ও দুরবাবা জেলায় ডুরান্ড লাইনের কাছে টহল দিচ্ছিল এবং তখনই তারা হামলার শিকার হয়।
এটি প্রতিশোধ নয় বরং আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা জবাব ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইসলামাবাদ জানিয়েছে তারা পূর্ব আফগানিস্তানে টিটিপি ও ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশের ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং এতে ৭০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্র দাবি করেছে।
তবে জাতিসংঘের আফগান মিশন জানিয়েছে নাঙ্গারহারে হামলায় অন্তত ১৩ জন সাধারণ মানুষ নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে টিটিপি নেতারা আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে যদিও কাবুল এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
এ এম/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









