নেত্রকোনা

নেত্রকোনার হাওরে পানি ও শীতে বোরো আবাদ বিলম্বিত, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

নেত্রকোনা, ১৬ ফেব্রুয়ারি – নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে এবার পানি দেরিতে নামায় এবং তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে একমাত্র ফসল বোরো ধানের আবাদ বেশ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। দেরিতে রোপণ এবং সার, সেচ ও শ্রমিকের বাড়তি খরচে চাষাবাদ করায় উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব হলে লাভের বিষয়ে সমস্যা হবে না।

জেলার মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলা পুরোপুরি হাওরবেষ্টিত এবং আরও ছয়টি উপজেলায় আংশিক হাওর রয়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা মূলত বোরো ফসলের ওপরই নির্ভরশীল। সরেজমিনে দেখা যায়, নিচু এলাকার পানি দেরিতে সরায় এবং শীতের প্রকোপে চারা রোপণ কার্যক্রম পিছিয়েছে। অনেক কৃষক আগাম জাতের ধান চাষ করে বর্ষার আগেই ফসল ঘরে তোলার আশা করছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ, খাল-বিলের পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় নিষ্কাশন ধীরগতির হয়ে পড়েছে, যা আবাদে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।

রোয়াইল হাওর এলাকায় কর্মরত কৃষক শহীদুল ইসলাম ও খোকন মিয়া জানান, হাওরের বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তার চেয়ে নদী-খাল খনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি। এতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং পৌষ মাসেই আবাদ শেষ করা সম্ভব হবে। এছাড়া নদী-খালে পর্যাপ্ত পানি থাকলে সেচের জন্য বিদ্যুৎ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিরুল ইসলাম জানান, জেলায় এবার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার হেক্টরে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে রয়েছে ৪২ হাজার হেক্টর। পানি ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে কিছুটা দেরি হলেও হাওরে শতভাগ রোপণ কাজ শেষ হয়েছে। উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এস এম/ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language