ঢাকার রাস্তায় প্যাডেল ছেড়ে ব্যাটারিতে ঝুঁকছেন চালকরা, বাড়ছে ঝুঁকি ও আয়

ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি – ঢাকার রাস্তায় যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম রিকশার ধরনে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একসময়ের অপরিহার্য প্যাডেলচালিত রিকশার স্থান দ্রুত দখল করে নিচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। ইনোভিশন নামক একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরিবর্তনের ফলে চালকদের আর্থসামাজিক অবস্থা, যাত্রীদের পছন্দ এবং সড়ক নিরাপত্তার চিত্রে উল্লেখযোগ্য বদল এসেছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিচালিত এই গবেষণায় ৩৪৮ জন চালক, ৩১২ জন যাত্রী ও ৬৩ জন গ্যারেজ মালিকের ওপর জরিপ চালানো হয়। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ব্যাটারি রিকশাচালকদের গড় বয়স ৩৮ বছর এবং তাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ ছোট, গড়ে মাত্র আড়াই বছর। অন্যদিকে প্যাডেল রিকশাচালকদের গড় বয়স ৪২ এবং অভিজ্ঞতা প্রায় ১৫ বছর। আয়ের দিক থেকে নিজস্ব মালিকানাধীন ব্যাটারি রিকশায় দৈনিক নিট আয় প্রায় ৯৭০ টাকা, যা প্যাডেল রিকশার তুলনায় অনেক বেশি। তবে ভাড়ায় চালিত রিকশার ক্ষেত্রে প্যাডেল রিকশাচালকরা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।
খরচ বাঁচাতে ব্যাটারি রিকশা এগিয়ে থাকলেও চালকদের ওপর ঋণের বোঝা অনেক বেশি। ব্যাটারি রিকশাচালকদের গড় ঋণ প্রায় ৮০ হাজার টাকা, যেখানে প্যাডেল চালকদের ঋণ ১৯ হাজার টাকার নিচে। জরিপে দেখা গেছে, ব্যাটারি রিকশায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। ৩০ শতাংশ ব্যাটারি রিকশাচালক দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, যেখানে গুরুতর আঘাতের হারও বেশি। তবুও দ্রুত যাতায়াতের সুবিধার্থে ৮২ শতাংশ যাত্রী ব্যাটারি রিকশা পছন্দ করেন। যাত্রীদের বড় অংশ তরুণ ও কর্মজীবী, যারা সময় বাঁচাতে এই ঝুঁকি নিচ্ছেন। গ্যারেজ মালিকরাও লাভের আশায় প্যাডেল রিকশা পরিবর্তন করে ব্যাটারি রিকশায় ঝুঁকছেন। তবে এই পরিবর্তনের ফলে যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভয়েস ফর রিফর্মের ফাহিম মাসরুর জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাটারি রিকশার সংখ্যা বেড়েছে এবং এটি অনেক সমস্যা তৈরি করছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ মনে করেন, রিকশা তুলে না দিয়ে আধুনিক ও নিরাপদ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মো. সেলিম খান উল্লেখ করেন, যানজটের মূল কারণ ফুটপাত দখল ও সড়ক ব্যবস্থাপনার অভাব, শুধু রিকশা নয়।
এসএএস/ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









