কর কমিয়ে ও করদাতার সংখ্যা বাড়িয়ে জামায়াতের অর্থনৈতিক নীতি

, ১ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন আর তাত্ত্বিক কোনো পর্যায়ে নেই বরং এটি এখন গভীর সংকটের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক ঋণের চাপ থেকে শুরু করে রাজস্ব ঘাটতি ও দুর্বল ব্যাংকিং খাতের মতো বিষয়গুলো এখন প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘস্থায়ী লোকসানও অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কঠিন বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থনৈতিক নীতি ও দর্শনকে এখন কঠোর মানদণ্ডে বিচার করার সময় এসেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পলিসি সামিটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের যে অর্থনৈতিক রূপরেখা ঘোষণা করেছে তা প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার তুলনায় বেশ ভিন্ন।
সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল উচ্চ ভ্যাট ও উচ্চ করহারের মাধ্যমে বড় বাজেট ও বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা। এর ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও রাজস্ব কাঠামো দুর্বল রয়ে গেছে এবং ঋণ ঝুঁকি বেড়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির সাম্প্রতিক বক্তব্যে কর কমানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির কথা বলা হলেও তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এখনো স্পষ্ট নয়। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী করহার কমিয়ে করদাতার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবে করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করা এবং সর্বোচ্চ আয়কর ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এনআইডি ভিত্তিক স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানোর এই পরিকল্পনা মধ্যবিত্তের কাছে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।
তবে দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামোর এই দেশে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হলেও অর্থনৈতিকভাবে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ভ্যাট কমানোর ফলে যে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে তা পূরণ করতে হলে কর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং দুর্নীতি পুরোপুরি দমন করতে হবে যা অতীতে কোনো সরকারই সফলভাবে করতে পারেনি।
সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নারীদের বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা এবং শিশু ও প্রবীণদের চিকিৎসার মতো জামায়াতের প্রস্তাবগুলো কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তবে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তিন বছরের গ্যাস বিদ্যুৎ ও পানির বিল স্থগিত রাখার প্রস্তাবটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেশ বাস্তবসম্মত ও প্রবৃদ্ধিমুখী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এস এ এস / ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









