জাতীয়

ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যাদের কাছে মানুষ নিরাপদ নয়, তারা ক্ষমতায় গেলে জনগণ নিরাপদ থাকবে না: জামায়াত আমির

নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠ, ৩০ জানুয়ারি – জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যাদের কাছে মানুষ নিরাপদ বোধ করছে না, তারা ক্ষমতায় গেলে জনগণ কখনোই নিরাপদ থাকবে না। শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, দেশের যুবসমাজ ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে যে জুলাইয়ের চেতনা কারা বাস্তবায়ন করবে। একইভাবে মা ও বোনেরাও বুঝতে পেরেছেন তাদের ইজ্জত ও নিরাপত্তা কার কাছে সুরক্ষিত থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেউ কেউ ধৈর্য ধরে রাখতে না পেরে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। কিন্তু যারা দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছেন, তাদের হাতে দেশের দায়িত্ব অর্পিত হলে ভালোবাসাভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সারা দেশে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শফিকুর রহমান বলেন, শুধু নোয়াখালী নয় বরং সারা দেশেই মানুষের ব্যাপক ভালোবাসা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া যুবসমাজ আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। নারীদের সমর্থন প্রসঙ্গে একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক পোশাক পরিহিত এক নারীকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন তিনি কাকে ভোট দেবেন।

জবাবে ওই নারী জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার কথা জানান। সাংবাদিকরা পাল্টা প্রশ্ন করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তো তিনি আধুনিক পোশাক পরতে পারবেন না। তখন ওই নারী জানান যে প্রয়োজনে তিনি আধুনিক পোশাক ছেড়ে দেবেন। এ থেকেই প্রমাণিত হয় নারীরা কোন দলকে বেশি পছন্দ করেন। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা সম্মানজনকভাবে বৃদ্ধি করা হবে, যাতে তাদের অনিয়ম বা ঘুষের আশ্রয় নিতে না হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, গত সাড়ে পনেরো বছরে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত রাজনৈতিক দল হচ্ছে জামায়াত। বিগত সরকার দলের নিবন্ধন বাতিল করে অফিস বন্ধ করে দিয়েছিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। ৫ আগস্টের পর প্রতিশোধ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত কথা দিয়ে কথা রেখেছে, কিন্তু কেউ কেউ সেই কথা রক্ষা করতে পারেননি।

এস এ এস / ৩০ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language