নির্বাচনের আগে মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিতে ড. ইউনূসকে অ্যামনেস্টির চিঠি

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি – বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুনিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন।
বুধবার ২৯ জানুয়ারি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাঠানো এই চিঠিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সুরক্ষিত না থাকার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের নাগরিকদের জীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মানবাধিকার পুনরুদ্ধারের যে দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকার পেয়েছে আগামী কয়েক সপ্তাহ হবে তা পালনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। নির্বাচনকালেও নাগরিকদের নির্বিঘ্নে মত প্রকাশ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও নীতি প্রয়োগের তাগিদ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নাগরিকেরা যাতে পুরোপুরি এবং নির্ভয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেন সেটি নিশ্চিত করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয় দিতে হবে বলে চিঠিতে মন্তব্য করা হয়।
অ্যামনেস্টির অভিযোগ ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক ও সমালোচকদের দমনে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করেছে। উদাহরণ হিসেবে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যাকে আগস্ট মাসে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এছাড়া ডিসেম্বরে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগে আটক করা হয়। সংস্থাটির মতে এই দুই সাংবাদিকের এমন স্বেচ্ছাচারী গ্রেপ্তার তাদের মতপ্রকাশ ও সংগঠন করার অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
চিঠিতে আরও বলা হয় যে গত ১৮ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান বিন হাদি নিহতের পর সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের অপর্যাপ্ত ভূমিকার বিষয়টি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ওই রাতে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল এবং নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তা করা হয়।
এছাড়াও একই দিন ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস নামের এক হিন্দু ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচনের আগে মানবাধিকার সুরক্ষায় করণীয় তুলে ধরে একটি মানবাধিকার সনদ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যেখানে বলা হয়েছে নির্বাচন সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করতে মানবাধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এনএন/ ২৯ জানুয়ারি ২০২৬









