ইসলাম

পবিত্র হজের খুতবা দিলেন ড. সালেহ আল হুমাইদম

হজের খুতবায় মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল হুমাইদ মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শয়তান মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু। মুসলমানদের উচিত পরস্পরের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা।

তিনি আরও বলেন, ইমানদারদের কর্তব্য আল্লাহকে ভয় করা এবং তাকওয়া অবলম্বন করা। তাকওয়া ইমানদারের বৈশিষ্ট্য। নেক আমল পাপসমূহকে মুছে দেয়। তাই আমাদের কর্তব্য যত বেশি সম্ভব নেক আমল করার চেষ্টা করা। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করুন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন।

ড. সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার, নম্র আচরণ, প্রতিশ্রুতি পূরণ ও লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লজ্জাশীলতা বা হায়া হলো ইমানের একটি শাখা।

হজের সময় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করা এবং পরস্পরকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে শায়খ সালেহ বলেন, আল্লাহ বলেছেন, নেক কাজে একে অপরকে সাহায্য করো এবং মন্দ কাজে বাধা দাও।

সৌদি আরবে আজ ৯ জিলহজ। ১৪৪৬ হিজরির পবিত্র আরাফার দিন বা হজের দিন আজ। আজ হজ পালনকারীরা ঐতিহাসিক আরাফার ময়দানে সমবেত হয়েছেন।

ঐতিহ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় বেলা সোয়া ১২টার দিকে মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হয়। সৌদি সরকারের উদ্যোগে খুতবাটি মূল আরবিসহ বাংলা, ইংরেজি, চাইনিজ, রুশ, তুর্কি, রোহিঙ্গা, ফরাসি, তামিল, পশতুসহ প্রায় ৩৫টি ভাষায় অনুবাদ করে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হজের রোকন ‘উকুফে আরাফাহ’
হজের অন্যতম রোকন বা ফরজ হলো ‘উকুফে আরাফাহ’ বা আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল-হাজ্জু আল-আরাফাহ’ অর্থাৎ আরাফার ময়দানে উপস্থিত হওয়াই হজ।

এ দিন আল্লাহ অধিক সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করে দেন, দোয়া কবুল করেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আরাফার দিনের মতো আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটবর্তী হন এবং বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন। আল্লাহ বলেন, কী চায় তারা? (অর্থাৎ তারা যা চায়, তাই তাদের দেওয়া হবে) (সহিহ মুসলিম: ১৩৪৮)

আজ (৯ জিলহজ) জোহরের সময় থেকে সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পর পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা ওয়াজিব। যদি কেউ সূর্যাস্তের আগে আরাফার সীমার বাইরে চলে যায়, তাহলে সূর্যাস্তের আগে আবার তাকে আরাফার মাঠে ফিরে আসতে হবে। অন্যথায় দম ওয়াজিব হবে।

কেউ যদি জোহর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে আরাফার ময়দানে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে আজ রাতের মধ্যে সুবহে সাদিক পর্যন্ত কিছুক্ষণের জন্য হলেও আরাফায় অবস্থান করতে হবে। ৯ জিলহজ জোহরের পর থেকে আগত রাতের সুবহে সাদিক পর্যন্ত কিছুক্ষণের জন্যও আরাফায় অবস্থান করতে না পারলে হজ বাতিল হয়ে যায়।

আইএ


Back to top button
🌐 Read in Your Language