আরজি কর-কাণ্ডে অভিযুক্তর আমৃত্যু কারাদণ্ড

কলকাতা, ২০ জানুয়ারি – ভারতের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সাজা ঘোষণা করেছেন শিয়ালদহ আদালত। অনেকেই ভেবেছিলেন বিরলতম অপরাধ হিসেবে ফাঁসির সাজা শোনাবেন আদালত। তবে আরজি কর-কাণ্ডে সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি নয়, আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত শনিবারই সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন শিয়ালদহ আদালত।
মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের সময় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ১৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। যদিও নিহত চিকিৎসকের পরিবার তা নিতে অস্বীকার করেছে।
আসামিকে যে তিন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো ধর্ষণের পর আঘাতের জেরে চিকিৎসকের মৃত্যু।
এসব অপরাধে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানা ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ (ধর্ষণ) ধারা, ৬৬ ধারা (ধর্ষণ এবং এমন আঘাত করা, যে কারণে মৃত্যু হতে পারে) এবং ১০৩ (১) ধারায় (খুন) সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ এনেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এর আগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সঞ্জয় রায়ের বক্তব্য শুনতে চান বিচারক। সেই সময় নিজেকে আরো একবার নির্দোষ বলে দাবি করেন সঞ্জয়।
তাকে ফাঁসানো হচ্ছে দাবি করে পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন তিনি।
অন্যদিকে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে বিরলতম ঘটনা বলে আখ্যা দিয়ে সঞ্জয়ের সর্বোচ্চ সাজার অনুরোধ জানানো হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও সঞ্জয়ের ফাঁসির দাবি জানানো হয়। তবে সঞ্জয়ের আইনজীবীর পক্ষ থেকে বিচারপতির কাছে অনুরোধ করা হয়েছে তাকে যেন ফাঁসি ছাড়া আর যেকোনো ধরনের সাজা দেওয়া হয়।
গত শনিবার সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
তবে তার সাজা ঘোষণার জন্য আজ সোমবার তিনি তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
সূত্র : বিবিসি, দ্য ওয়াল।









