নারায়নগঞ্জ

রূপগঞ্জের অগ্নিকাণ্ড : নিখোঁজ শ্রমিকদের বেশিরভাগই কিশোরগঞ্জের

আমিনুল ইসলাম বাবু

নারায়ণগঞ্জ, ১৫ জুলাই – নারায়ণগঞ্জের জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের লাশ শনাক্তে ডিএনএ টেস্ট করার জন্য মরদেহগুলো ঢাকার দুই হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

হাসপাতালে ডিএনএ নমুনা দিতে আসা শ্রমিক পরিবারগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিখোঁজ শ্রমিকদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। এছাড়াও ভোলা, নোয়াখালী, নেত্রকোনা, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, গাইবান্ধা, মৌলভীবাজার, গাজীপুর, রাজশাহী, নরসিংদী, পাবনা, দিনাজপুর, ডেমরা, জামালপুর, নীলফামারী,বগুড়া ও বরিশাল জেলার শ্রমিক রয়েছেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র ডিএনএ ল্যাবরেটরির সহকারী এনালিসিষ্ট নুসরাত ইয়াছমিন জানান, ৪৮টি মরদেহের বিপরীতে ৬৬ জনের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

শনাক্ত করতে কত দিন সময় লাগবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাবে না। সাধারণত তিন সপ্তাহ সময় লাগে। আমরা কাজ শুরু করেছি, এরই মধ্যে এক সপ্তাহ সময় চলে গেছে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা শনাক্তের চেষ্টা করে যাচ্ছি। শনাক্তের কাজ শেষ হলে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের মরচুয়ারিতে (লাশ রাখার ফ্রিজ) রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মরদেহগুলো দেখে চেনার উপায় না থাকায় শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে প্রথমে নাম্বারিং করা হয়েছে। নাম্বার অনুযায়ী ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য ফরেনসিক চিকিৎসকদের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি।

ওই কারখানায় কাজ করতেন এবং আগুনের ঘটনার পর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি এমন শ্রমিকদের মরদেরহের দাবিদার পরিবারগুলোর সদস্যদের কাছ থেকে ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃতদের ডিএনএ নমুনার সাথে দাবিকৃতদের নমুনা মিলিয়ে শনাক্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজে এসেছেন এবং ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য যারা নমুনা দিয়েছেন তাদের দেওয়া তথ্য থেকে নিখোঁজ শ্রমিকরা হচ্ছেন, জাহানারা, মিনা খাতুন, ফারজানা, ফাতেমা আক্তার, শাহানা আক্তার, রহিমা আক্তার, শাহানা, মাহমুদা আক্তার, নাঈম ইসলাম, রাবেয়া আক্তার, নাজমুল হোসেন, সেলিনা আক্তার, তাসলিমা আক্তার, ফাতিমা আক্তার, সাগরিকা শায়লা, রহিমা আক্তার, আমেনা আক্তার, খাদেজা আক্তার, রাকিব দেওয়ান, হাসনাইন, মো. শামীম, মহিউদ্দিন, রাকিব হোসেন, আকাশ মিয়া, আয়াত হোসেন, মো. রাশেদ,তারেক মিয়া, শান্তা মনি আক্তার, তাকিয়া আক্তার, হিমা আক্তার, ফিরোজা বেগম, মিতু আক্তার, অমৃতা বেগম, ইশরাত জাহান তুলি, শেফালী রানী সরকার, লাবন্য আক্তার, নুসরাত জাহান টুকটুকি, কম্পা রানী বর্মন, রিপন মিয়া, মাহবুবুর রহমান, রিয়া আক্তার, মো. আলী, মো. সাজ্জাদ হোসেন, জিহাদ রানা, নাজমা বেগম, স্বপন মিয়া, নাজমা খাতুন ও মো. নোমান।

দাবিদারদের দেওয়া তথ্য মতে, মর্গের মরচুয়ারিতে রাখা ৪৮ শ্রমিকের মরদেহের মধ্যে ৩১ জন নারী ও ১৭ জন পুরুষ রয়েছেন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/১৫ জুলাই ২০২১


Back to top button
🌐 Read in Your Language