বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণকালের ভয়াবহ যত বন্যা

বাংলাদেশে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস বাংলাদেশে বর্ষা ঋতু। এই সময়ে প্রধান নদী ও উপনদীগুলো হিমালয়ের বরফগলা ও বৃষ্টিতে পানির উচ্চ প্রবাহে প্রবাহিত হয় এবং বন্যায় প্লাবিত হয়। কিন্তু চলতি বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত ২১ টি জেলায় ৩০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী। তৃতীয়বারের মতো বাড়ছে পানি। বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগস্টের আগে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ রকমের বন্যা হয়েছে বেশ কয়েকবার।
‘৮৭ সালের বন্যা
১৯৮৭ জুলাই-আগস্ট মাসে বন্যায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। প্রায় ৫৭ হাজার ৩০০ বর্গ কিমি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত (সমগ্র দেশের ৪০% এরও অধিক এলাকা)। এ ধরনের বন্যা ৩০-৭০ বছরে একবার ঘটে। দেশের ভিতরে এবং বাইরে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতই বন্যার প্রধান কারণ ছিল। ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিমাঞ্চল, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র একীভূত হওয়ার নিচের অঞ্চল, খুলনার উত্তরাংশ এবং মেঘালয় পাহাড়ের সংলগ্ন অঞ্চল বন্যা কবলিত হয়।‘৮৮ সালের বন্যা
১৯৮৮-র বন্যা ছিলো বাংলাদেশে সংঘটিত প্রলংকারী বন্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সংঘটিত এই বন্যায় দেশের প্রায় ৬০% এলাকা ডুবে যায়। বেশ কয়েকটি স্থানে এই বন্যা ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী ছিলো। এটি ছিলো এদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক ও ক্ষয়-ক্ষতিময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বিশ্বব্যাপী গণ-মাধ্যমেও সেই সময় এই দুর্যোগটি সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়। বন্যার মূল কারণ ছিলো সারা দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত। এবং একই সময়ে দেশের তিনটি প্রধান নদীর অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হয়। এই বন্যায় বাংলাদেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গ কিমি (সমগ্র দেশের ৬০% এরও অধিক) এলাকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
‘৯৮ সালের বন্যা
১৯৯৮ সালের বন্যা হয় আগস্ট মাসে। এতে ৬৮ শতাংশ এলাকার ১ লাখ ২৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার ব্যাপ্তি অনুযায়ী এটি ১৯৮৮ সালের বন্যার সাথে তুলনীয়। ব্যাপক বৃষ্টিপাত, একই সময়ে দেশের তিনটি প্রধান নদীর প্রবাহ ঘটার ফলে ও ব্যাক ওয়াটার এ্যাফেক্টের কারণে এই বন্যা ঘটে।
‘০৪ সালের বন্যা
২০০৪ সালে বন্যা হয় জুলাই মাসে। এতে বাংলাদেশের ৩৮ শতাংশ এলাকার ৫৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়।
‘০৭ সালের বন্যা
২০০৭ সালের বন্যাকে মহাবন্যা বলা হয়। ২০০৭ সালের বন্যা হয় সেপ্টেম্বর মাসে। এতে দেশের ৪২ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। যার মোট আয়তন ৬২ হাজার ৩০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়।‘১৭ সালের বন্যা
বাংলাদেশে এলাকাভেদে ২০১৭ সালের বন্যা ‘ভয়াবহ’ এবং ‘অতি ভয়াবহ’ পর্যায়ের ছিল। তবে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের তুলনায় ২০১৭ সালের বন্যাকে সারা দেশের জন্য ভয়াবহ বলা যাবে না। তবে পানিপ্রবাহ ও ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় বন্যাকে এলাকাভিত্তিক হিসাবে ভয়াবহ থেকে অতি ভয়াবহ বলা যায়। বিশেষ করে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জ অতি ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। এসব জেলায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতিও হয় অনেক। বন্যার পানির তোড়ে সড়ক, মহাসড়ক, বেড়িবাঁধ ও রেললাইন বিধ্বস্ত হয়। একই মাত্রার বন্যা হয় এবার ভারত, নেপাল ও ভুটানে।
এম এন / ০৭ জুন









