
ঢাকা, ১৮ মে– আজকে স্বাস্থ্যসেবা সচিবের অফিসে যে ঘটনা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত, দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি। রোজিনা ইসলাম একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনেকগুলো নজির স্থাপন করেছেন। বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতি-অনিয়ম প্রকাশ করে সাধারণ জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছেন, পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার। একজন সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহের জন্য যেকোনো উপায়ে নিতেই পারেন, তার উপায় ভুল হতে পারে, তা আইনের দিক থেকে অন্যায্য হতে পারে। সে জন্য আইন আছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সেজন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। রেজিনা যদি কোন অন্যায় করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেত। কিন্তু একজন নারী সাংবাদিককে স্বাস্থ্যসেবা সচিবের অফিসে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতার শামিল।
বাংলাদেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা প্রায়ই বলা হয়। এখন এই ঘটনাটি আমাদের সামনে কি নজির সৃষ্টি করলো? যদি রোজিনা কোন গোপন নথির ছবি তুলে থাকেন তবে তার জন্য আইন আছে, বিচার আছে। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা সচিবের সহকারীরা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেননা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কদিন আগেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে রোজিনা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। আজ বাংলাদেশ প্রতিদিনে স্বাস্থ্য খাতে প্রচারণার নামে অর্ধশত কোটি টাকা লুটপাটের সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্থ এই মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলে কি মাস্তান দিয়ে তা দমানো হবে? রোজিনার সঙ্গে যেটা করা হয়েছে তা স্রেফ মাস্তানি।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটি কখনোই কাম্য হতে পারে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করি। তার হাত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটেছে। তিনি নিশ্চয়ই একজন নারী সাংবাদিককে যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে সেই বিষয়টি দেখবেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। রোজিনা যদি কোন অন্যায় করে থাকে তার বিচার হবে। কিন্তু তাকে যারা হেনস্তা করেছে তারা গণতন্ত্রের শত্রু, তারা এই সরকারের শত্রু এবং তারা দুর্নীতির পক্ষের শক্তি। এটি আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে।
বিষয়: সাংবাদিক-রোজিনা, রোজিনা, নির্যাতন
এম এন / ১৮ মে









