তিন শূন্য আসনে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে যারা

ঢাকা, ০১ মে – একাদশ জাতীয় সংসদের শূন্য হওয়া তিন আসন ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩-এ উপনির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। করোনার কারণে এমনকি নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু এরই মধ্যে এসব আসনে নৌকার মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন শতাধিক ব্যক্তি। এর মধ্যে প্রয়াত সংসদ-সদেস্যর স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েসহ স্বজনরা যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাও।
এদিকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাদা ছোড়াছড়ি না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কেউ এর ব্যত্যয় করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না।
৪ এপ্রিল সংসদ-সদস্য আসলামুল হকের মৃত্যুর পর ১৩ এপ্রিল ঢাকা-১৪ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। এর গেজেট নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আসনটিতে উপনির্বাচন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আসলামুল হকের আসনে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্ত্রী মাকসুদা হকের নাম আলোচনায় আছে। এর বাইরে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নাম রয়েছে আলোচনায়। ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এবারও প্রত্যাশী তিনি।
সাবেক আইনমন্ত্রী ও কুমিল্লা-৫ থেকে পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু ১৪ এপ্রিল ইন্তেকাল করলে আসনটি শূন্য হয়। শোক না কাটতেই এখানে মাঠে নেমেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। শোকসভা ও শোক জ্ঞাপনের পাশাপাশি উপনির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন। ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে টানাচ্ছেন পোস্টার-ফেস্টুনও। সরব রয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
এ আসনে প্রার্থী হিসাবে আব্দুল মতিন খসরুর পরিবারের চারজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন স্ত্রী সেলিনা সোবহান খসরু, ছেলে মুনেফ ওয়াসিফ, মেয়ে ডা. উম্মে হাবিবা দিলশাদ মুনমুন ও ভাই অ্যাডভোকেট আবদুল মমিন ফেরদৌস। চূড়ান্ত করতে পরিবারের মধ্যে আলোচনা চলছে।
পরিবারের বাইরে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, সহ-সভাপতি লায়ন ইঞ্জি মো. আল আমিন, উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী, যুবলীগ নেতা এহতেশামুল হাসান ভূইয়া রুমি, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা দিদার মো. নিজামুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মো. আলী চৌধুরী মানিক, মেজর জেনারেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুস সালাম বেগ, আওয়ামী লীগ নেতা শাহজালাল মজুমদার, তারিক হায়দার, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী, বিএলএম গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ মতিন, আব্দুল জলিল, আবু জাহের, শাহজালাল মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. মাহতাব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তফা কামাল, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা আলোচনায় রয়েছেন।
মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে সিলেট-৩ আসনটি শূন্য হয়। ডজনখানেক নেতা এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন। এ ছাড়া মাহমুদ উস সামাদের স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরীও দলীয় প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরও রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান গৌছ সুলতান, বিএমএ’র মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল।
সূত্র : বাংলা ইনসাইডার
এন এইচ, ০১ মে









