ইসরায়েলে ঐতিহাসিক নির্বাচন: নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণে প্রবাসীদের অভাবনীয় ‘ভোট বিপ্লব’

তেল আবিব, ২৬ অক্টোবর – ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত পার্লামেন্ট নির্বাচন। গাজায় দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযান, অধিকৃত পশ্চিম তীরে আগ্রাসন এবং ইরানের সাথে সামরিক সংঘাতের মতো বিশ্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন কেবল দেশের ভেতরের মানুষের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রবাসী ইসরায়েলি ভোটাররা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্যমতে, শুধুমাত্র ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৬৭,০০০ প্রবাসী ইসরায়েলি দেশে ফিরে এসেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল সংখ্যক প্রবাসী ভোটারের বড় একটি অংশই নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থী জোট, তাদের যুদ্ধমুখী নীতি এবং অতি-রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির চরম বিরোধী।
কেন নেতানিয়াহুর ওপর প্রবাসীদের এত ক্ষোভ?
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ইসরায়েলিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের কথা:
‘গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই’: যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বজনদের নিয়ে ভোট দিতে আসা হাদার সাসকিন্দ বলেন, “ইসরায়েল এখন এক গভীর সংকটের গর্তে পড়েছে। নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকার প্রতিদিন সেই গর্তকে আরও গভীর করছেন। নতুন সরকারের প্রথম কাজই হতে হবে সেই গর্ত খোঁড়া বন্ধ করা।”
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্নতা ও ইহুদিবিদ্বেষ: অনেক প্রবাসীর মতে, ৭ অক্টোবরের হামলা রোধে চরম ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করা এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে বর্তমান সরকারের নেওয়া কট্টর নীতির কারণে বিশ্বজুড়ে সাধারণ ইসরায়েলিদের প্রতি ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবাসী তামার ইচিলভ জানান, ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ নীতির কারণে বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ (অ্যান্টিসেমিটিজম) হু হু করে বাড়ছে।
রাজনৈতিক ফায়দা ও যুদ্ধকে ব্যবহারের অভিযোগ: যুক্তরাজ্য থেকে আসা এতি উইসোটজকি কোহেন মন্তব্য করেন, ইরানের সাথে সংঘাতের সময় তিনি বুঝেছিলেন যে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বর্তমান সরকার যেকোনো পর্যায়ে যেতে পারে এবং জনগণকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে।
জরিপে সমানে সমান: ঝুলছে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ
ক্ষমতায় টিকতে মরিয়া নেতানিয়াহু জাতীয়তাবাদী অনুভূতি উসকে দেওয়ার পাশাপাশি উগ্র ডানপন্থীদের সমর্থন ধরে রাখার সব ধরনের কৌশল খাটিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ ও নাফতালি বেনেটের সঙ্গে জোট বেঁধে মাঠে নামা আইজেনকোট নেতানিয়াহুর আসন নড়িয়ে দিয়েছেন।
এমনকি নব্বইয়ের দশকে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া ভোটাররাও এবার তাঁর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। অনেক প্রবাসীর মতে, দেশকে পুনর্গঠন ও সঠিক পথে ফেরানোর ক্ষেত্রে এই নির্বাচনই হয়তো নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী আন্দোলনকে পরাজিত করার “শেষ সুযোগ”।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক এই পরিবর্তনের হাওয়া কি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও সংঘাত থামাতে ভূমিকা রাখতে পারবে? প্রবাসী ভোটারদের এই বার্তা নিয়ে আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানান!
এনএন/ ২৬ অক্টোবর ২০২৬







