মধ্যপ্রাচ্য

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যে তেহরানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলো

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা

তেহরান,২৬ অক্টোবর-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানে বৈঠকে বসেছেন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়ানোর পথ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইরান ও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলো। ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করা।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করতে আলোচনা শুরু করার উদ্দেশ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি এই ব্যবস্থাকে ‘অভ্যন্তরীণভাবে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন একটি নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এ ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে ইরান।

বৈঠকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কারণে এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তেহরানে উপস্থিতিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরান ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সংঘাতের বিষয়ে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। চলমান যুদ্ধের মধ্যে তেহরান সৌদি আরবের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ইরানের অভিযোগ, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তা করছে। এ কারণে তেহরান সৌদি আরবকে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের সঙ্গে জড়িত পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের অভিযোগ, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সহায়তা করছে ইরান। সম্প্রতি সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তেহরান সফর এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই বৈঠক থেকে কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইরান ও সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো নিরাপত্তার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ খুঁজে পেলে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বৈঠককে ঘিরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যেও আশাবাদ দেখা যাচ্ছে। তাদের প্রত্যাশা, তেহরানের এই আলোচনা একটি ইতিবাচক উদ্যোগের সূচনা করবে। পাশাপাশি, এমন একটি প্রক্রিয়া গড়ে উঠবে, যার মাধ্যমে পারস্পরিক অবিশ্বাস কমিয়ে সংঘাতের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।

তবে কূটনৈতিক আলোচনার এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক আস্থা, নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ এবং বাস্তব পদক্ষেপের ওপর। তারপরও চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

এস এম/ ২৬ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language