আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি বাহিনীর চরম ধৃষ্টতা! জুমার নামাজ শেষ হতেই খতিবকে তুলে নিয়ে গেল ইসরায়েলি পুলিশ

জেরুজালেম, ২৪ অক্টোবর – পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও ইসলামি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ওপর ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর দমনপীড়ন ও নজিরবিহীন কড়াকড়ির এক নতুন বিতর্কিত অধ্যায় সূচিত হলো। জুমার নামাজ আদায় ও খুতবা দেওয়ার পরপরই আল-আকসা মসজিদের সম্মানিত খতিব শেখ খালেদ আবু জুমআকে নাটকীয়ভাবে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী।
২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) আল-আকসায় জুমার খুতবা প্রদান ও নামাজ পরিচালনা শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণেই এই চাঞ্চল্যকর আটকের ঘটনাটি ঘটে। ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’ (WAFA) জেরুজালেম গভর্নরেটের মিডিয়া শাখার বরাতে এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার আকস্মিকতা ও ইসরায়েলি পদক্ষেপ:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ইসরায়েলি বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা খতিব শেখ খালেদ আবু জুমআকে চারপাশ থেকে ঘেরাও করে ফেলে। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা বা আইনি নোটিশ ছাড়াই দ্রুততার সাথে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
যদিও পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে, তবে ঠিক কী কারণে বা জুমার খুতবার কোন নির্দিষ্ট বক্তব্যের তথাকথিত অভিযোগে তাকে হঠাৎ আটক করা হলো, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি পুলিশ বা প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেনি।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও ক্ষোভের আগুন:
দীর্ঘদিন ধরেই দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়মিত সামরিক কড়াকড়ি, তল্লাশি এবং ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের ঘটনা বৈশ্বিক উদ্বেগের বড় কারণ। কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ছাড়া মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থানের খতিবকে এভাবে নামাজ শেষ হওয়া মাত্রই তুলে নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের হৃদয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
এনএন/ ২৪ অক্টোবর ২০২৬







