জাতীয়

জামায়াতি আদর্শের বিস্তারের অভিযোগ তুলে এনসিপি ছাড়লেন কেন্দ্রীয় সংগঠক আবদুর রহমান

কেন্দ্রীয় সংগঠক আবদুর রহমান

ঢাকা,১৭ অক্টোবর-জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) জামায়াতি আদর্শের বিস্তার ঘটেছে—এমন অভিযোগ তুলে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. আবদুর রহমান। গতকাল তিনি দলের আহ্বায়কের কাছেও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান আবদুর রহমান।

পদত্যাগপত্রে তিনি এনসিপির নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক জোট গঠনের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি সহকর্মীদের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে ঐতিহাসিক বিষয়ে মতামত দেওয়ার কারণে তাকে ‘মুজিববাদী’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ করেন আবদুর রহমান।

পদত্যাগপত্রে আবদুর রহমান বলেন, ‘ঘোষিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, নতুন বন্দোবস্তের প্রত্যয় এবং বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি অঙ্গীকার আমাকে এনসিপিতে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, এনসিপির নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান এবং স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক জোট গঠনের ফলে কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত জামায়াতি আদর্শের বিস্তার ঘটেছে। জামায়াত প্রশ্নে দলের অনেক প্রতিষ্ঠাকালীন মেধাবী, পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় নেতা এনসিপি ছেড়ে গেছেন। রাজনৈতিক জোট ও আদর্শিক জোট এক হবে না—এমন প্রত্যাশা থেকে আমি এনসিপির সঙ্গে থেকে যাই। কিন্তু দিন দিন সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে দ্বিচারিতা যেন বেড়েই চলেছে।’

জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক জোট এখন আদর্শিকভাবেও একাকার হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করে তিনি লিখেছেন, ‘দলের একজন কর্মী হিসেবে এটি আমার মৌলিক আদর্শ ও চেতনার সঙ্গে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে সহকর্মীদের বিমাতাসুলভ আচরণ, বিশেষ করে ঐতিহাসিক বিষয়ে আমার মতামতের জন্য মুজিববাদী ট্যাগ দেওয়া, আমার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে। এতে সহকর্মীদের ব্যাপারে অস্বস্তিকর মনোভাব তৈরি হয়। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের বর্তমান অবস্থান জামায়াত-শিবিরের অবস্থানের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। ফলে আদর্শিক প্রশ্নেও এনসিপির স্বতন্ত্র অবস্থান এখন যেন জামায়াতের বয়ান দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন অবস্থায় আমার পক্ষে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা নৈতিক ও আদর্শিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে আমি এনসিপির সঙ্গে পথচলা এখানেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে পদত্যাগ করছি।’

পদত্যাগপত্রে সহকর্মীদের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবদুর রহমান। বিশেষ করে ঐতিহাসিক বিষয়ে মতামত দেওয়ায় তাকে ‘মুজিববাদী’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের আচরণ তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করেছে এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

প্রসঙ্গত, একসময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আবদুর রহমান। ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি সম্প্রসারণ করা হলে তাকে ওই কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়।

এস এম/ ১৭ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language