১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামের বিমান চলাচল বন্ধ, বিপাকে ১৫ হাজার যাত্রী

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর – সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের নজিরবিহীন হামলা এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ফ্লাইট চলাচলে দেখা দিয়েছে মারাত্মক বিপর্যয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ওই দুই গন্তব্যে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিজেদের সব ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
একই সুর মেলানো হয়েছে বেসরকারী বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকেও; তারাও আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সমস্ত ফ্লাইট বাতিল বলে ঘোষণা করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে বিমানের পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতকরণের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়।
বিকল্প পথ: জেদ্দা ও মদিনা রুটে বাড়তি আসন ও ফ্লাইট
স্থগিতের পর ভোগান্তি কমাতে বিকল্প সূচির ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চরম জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে আসা- যাওয়া করতে পারবেন।
যাত্রী সংকট কাটাতে বিমানের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে:
মদিনা রুটে বড় উড়োজাহাজ: অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে মদিনা রুটে ছোট বোয়িং ৭৮৭-এর বদলে সুপরিসর বোয়িং ৭৭৭ সংযোজন করা হয়েছে। ফলে প্রতিটি ফ্লাইটে বাড়তি ১৪৮টি আসন যুক্ত হয়েছে।
জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট: ট্রানজিট ও সরাসরি যাতায়াতের চাপ সামলাতে জেদ্দা রুটে আরও ৩টি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান।
টিকিট রি-ইস্যু বা ভ্রমণসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য দ্রুত নিকটস্থ বিমান সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পাঁচ দিনে বাতিল ১০৩ ফ্লাইট, ভোগান্তিতে সাড়ে ১৫ হাজার যাত্রী
হুতিদের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জের ধরে গত শনিবার থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদিগামী আকাশপথে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ দিনে ঢাকা থেকে মোট ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
যার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৪২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে ৬১টি। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও অনিশ্চিত ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ১৫,৭৭৯ জন প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রী।
সরাসরি বাতিল হওয়া ৪২টি ফ্লাইটের হিসাব:
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: ১৭টি
- ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স: ১০টি
- সৌদিয়া এয়ারলাইন্স: ৮টি
- রিয়াদ এয়ারওয়েজ: ৭টি
ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিলের চিত্র:
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ভারতীয় বিমান সংস্থা ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স, যাদের মোট ২২টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া এমিরেটস (১৪টি), কাতার এয়ারওয়েজ (৮টি), সালাম এয়ার (৭টি), ফ্লাই দুবাই (৬টি), এয়ার ইন্ডিয়া (৩টি) এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
সৌদিতে রক্তক্ষয়ী হামলা: প্রাণ গেছে ২ বাংলাদেশির
গত শনিবার দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে রিয়াদের ‘বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ এবং পরবর্তীতে দাম্মামের ‘বাদশাহ ফাহাদ বিমানবন্দরে’ ইয়েমেনি হুতি বাহিনী সিরিজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। নিকট অতীতে এটিই সৌদি বেসামরিক বিমানঘাঁটিতে চালানো সবচেয়ে বড় এবং প্রাণঘাতী হামলা।
হামলায় বিমানবন্দরে থাকা ২ জন প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৩ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩-শরও বেশি যাত্রী ও বিমানকর্মী। আহতদের মধ্যেও অন্তত ২৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও প্রবাসীদের চরম উদ্বেগ
লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ এসে পড়েছে সাধারণ প্রবাসীদের জীবনে। কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে কয়েক হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের ওপর এখন চাকরি হারানোর আতঙ্ক ঝুলছে। সৌদি কতৃপক্ষ আকাশসীমা ও বিমানবন্দরগুলো পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়া অনিশ্চিত।
এনএন/ ১৫ অক্টোবর ২০২৬







