বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে রেকর্ড ৯৯% ছাড়! সময় বাড়ল ৪ মাস, বড় সুযোগ বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর – বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বিশাল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর আওতায় অনুসন্ধান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা বা তথ্য প্যাকেজের দাম সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে ৪ মাস।
লাখ লাখ ডলারের ডেটা এখন মাত্র ৫ হাজারে!
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পেট্রোবাংলার প্রকাশিত এক সংশোধনী বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়। আগে যেসব ডেটা প্যাকেজের মূল্য ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত ছিল, সেগুলো এখন থেকে পাওয়া যাবে মাত্র ৫ হাজার মার্কিন ডলারে।
বাম্পার ডিসকাউন্ট: প্রধান ৬টি তথ্য প্যাকেজের দাম ৯৭% থেকে ৯৯% পর্যন্ত কমানো হয়েছে।
৪টি প্যাকেজ একদম ফ্রি: ১৯৭৪-৭৬ সালের ৩১ হাজার লাইন-কিলোমিটার পুরোনো সিসমিক ডেটা, কূপের তথ্য ও গবেষণামূলক স্টাডি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
সময়সীমা বৃদ্ধি: দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে*২০২৭ সালের ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।
লাইনে বিশ্বসেরা ১০ তেল-গ্যাস জায়ান্ট
পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (কন্ট্রাক্ট) হাসান মাহমুদুল ইসলাম জানান, বেশি সংখ্যক বিদেশি বিনিয়োগকারী নিশ্চিত করতেই দাম কমানো এবং সময় বাড়ানোর এই পদক্ষেপ।
ইতিমধ্যেই চীনের সিএনওওসি (CNOOC), তুরস্কের টার্কিশ পেট্রোলিয়াম (TPAO), সিনোপেক (Sinopec), ক্রিসএনার্জির মতো ১০টি আন্তর্জাতিক ও শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি এই তথ্য প্যাকেজগুলো সংগ্রহ করেছে। প্রমোশনাল বিড ডকুমেন্টও কিনেছে ৩টি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান।
মুখ খুললেন বিশেষজ্ঞরা: তৈরি বিতর্কও
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরূল ইমাম বলেন, “বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সিসমিক তথ্যের দাম কমানো ও সময় বাড়ানো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এতে প্রাথমিক জরিপের খরচ কমবে এবং তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।”
তবে ভিন্ন মত ব্যক্ত করে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বিষয়টিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে সাগরের ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতিকে কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। পেট্রোবাংলার এই অভাবনীয় ছাড় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সত্যি আকৃষ্ট করতে পারে কি না—তাই এখন দেখার বিষয়।
এনএন/ ১৪ অক্টোবর ২০২৬







