ইয়েমেন সংকট: রিয়াদ-হুতি রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাঝেই হঠাৎ মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিল ইরান

তেহরান, ১৩ অক্টোবর – সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সম্প্রতি নতুন করে শুরু হওয়া নজিরবিহীন বিমান হামলা, বিমানবন্দর বন্ধ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই এক বড় কূটনৈতিক মোড় সামনে এসেছে। দুই পক্ষের মধ্যে চলা ভয়াবহ এই পরিস্থিতি শান্ত করতে এবার সরাসরি মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদকে টেলিফোন করে এই আলোচনার প্রস্তাব দেন।
টেলিফোন আলাপে কী বললেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী?
ইরানি গণমাধ্যম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির নিজস্ব অফিশিয়াল টেলিগ্রাম বার্তা অনুযায়ী, ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে জোরপূর্বক সামরিক উত্তেজনার বদলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
“সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। ইরান মনে করে, রাজনৈতিক সমাধানকে অবহেলা করে সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিলে বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। যদি উভয়পক্ষ রাজনৈতিকভাবে নিজেদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো সমাধানে রাজি থাকে, সেক্ষেত্রে সংলাপ শুরুর জন্য ইরান সব রকমভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে।”— সৈয়দ আব্বাস আরাগচি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইরান।
কূটনৈতিক সমীকরণ ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শিয়া-সুন্নি রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তারের দীর্ঘ সমীকরণ রয়েছে। ইয়েমেনের শিয়া সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র হিসেবে কাজ করে আসছে।
সৌদি সংবাদমাধ্যমের অবস্থান: রিয়াদ ও তেহরানের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে কথা হওয়ার বিষয়টি সৌদি সংবাদমাধ্যমগুলোতে নিশ্চিত ও প্রচার করা হলেও, আব্বাস আরাগচির দেওয়া বিশেষ
মধ্যস্থতার প্রস্তাব’ সম্পর্কিত অংশটি তারা কৌশলে এড়িয়ে গেছে।
সংকটের গুরুত্ব: রিয়াদ বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় হুতিদের ধারাবাহিক মিসাইল হামলার পর সৌদি আরব যখন ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, ঠিক তখনই তেহরানের এই আলোচনার আহ্বান আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এক নজরে ইরান-সৌদি বার্তালাপ
- মূল বার্তা: হুতি-সৌদি সংঘাত নিরসনে ইরানের মধ্যস্থতা করার ইচ্ছা
- দুই শীর্ষনেতা: সৈয়দ আব্বাস আরাগচি (ইরান) ও ফয়সাল বিন ফারহান (সৌদি আরব)
- ইরানের প্রস্তাব: সামরিক বলপ্রয়োগের বদলে সংলাপ ও রাজনৈতিক সমাধান
- সৌদির অবস্থান: ফোনালাপের কথা স্বীকার করলেও মধ্যস্থতার প্রস্তাবে নীরবতা ।
এনএন/ ১৩ অক্টোবর ২০২৬







