সৌদি তেল ও এভিয়েশন খাতে বড় ধাক্কা: কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি জ্বালানিমন্ত্রীর

রিয়াদ, ১৩ অক্টোবর – সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রিয়াদ। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান স্পষ্ট ভাষায় হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হামলার জবাবে সৌদি আরব অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
রিয়াদে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিল (ডব্লিউপিসি) এনার্জি কংগ্রেসে কথা বলতে গিয়ে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, “সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। আমাদের জবাবও সমানভাবে কঠোর হতে হবে।”
বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় রক্তক্ষয়ী হামলা
সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের ধারাবাহিক ও নৃশংস হামলায় গত কয়েক দিনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে:
রোববারের প্রাণঘাতী হামলা: রাজধানী রিয়াদের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে হুতিদের হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
শনিবারের বড় ধাক্কা: এর ঠিক একদিন আগেই একই বিমানবন্দরের আরেকটি টার্মিনালে হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওই ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান এবং নিরাপত্তার খাতিরে টার্মিনালটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
পাল্টা বিমান হামলা: অন্যদিকে, হুতি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, রোববারে রাজধানী সানায় একটি আবাসিক বাড়িতে সৌদি জোটের বিমান হামলায় একটি নিষ্পাপ শিশু নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।
“সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব এবং দেশের জ্বালানি ও এভিয়েশন খাতকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।” — প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান, সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী।
দীর্ঘমেয়াদী ইয়েমেন সংকটের পটভূমি
২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আজ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ নিয়েছে:
ক্ষমতা দখল: ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
জোটের সামরিক হস্তক্ষেপ: ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দেশটিতে বড় ধরনের বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে।
বর্তমান পরিস্থিতি: লোহিত সাগর উপকূলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সৌদি জোট সমর্থিত সরকারপন্থী বাহিনী এবং হুতিদের মধ্যকার এই দীর্ঘ লড়াই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তাকে এখন চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এনএন/ ১৩ অক্টোবর ২০২৬







