১২ ঘণ্টার মরণপণ লড়াই শেষে নিয়ন্ত্রণে চকবাজারের মনসুর খান প্লাজার আগুন

ঢাকা, ১৩ অক্টোবর – রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে অবস্থিত মনসুর খান প্লাজায় লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার টানটান উত্তেজনাকর লড়াই শেষে অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের নিরলস প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৫টা ২০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুনে মার্কেটটির ছয়তলায় থাকা সমস্ত দোকান ও মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে এই দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে আগুন নেভাতে গিয়ে তীব্র ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ফায়ার সার্ভিসের অন্তত দুইজন বীর কর্মী।
কেন ১২ ঘণ্টা লাগল আগুন নেভাতে?
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যগত ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো এই অগ্নিকাণ্ডের সময় আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পথে প্রধান বাধাগুলো ছিল:
সরু রাস্তাঘাট ও যানজট: পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো এতই সংকীর্ণ যে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি ও পানির বাহনগুলো দ্রুত একেবারে ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। দীর্ঘ দূরত্বের পাইপ টেনে পানি দিতে হয়েছে।
ভবনের জটিল কাঠামো: অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই বহুতল ভবনটির ভেতরে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় চরম তাপ ও বিষাক্ত ধোঁয়া আটকে থাকে, যা ভেতরে প্রবেশ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তোলে।
দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি: মার্কেটের ভেতরে থাকা বিভিন্ন পণ্যের কারণে মুহূর্তেই আগুন তীব্র আকার ধারণ করে এবং ওপরের তলায় ছড়িয়ে পড়ে।
পুরান ঢাকার সরু রাস্তাঘাট এবং ভবনের কাঠামোগত জটিলতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে আমাদের কর্মীরা জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে গেছেন।”— তালহা বিন জসিম, কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেল।
এনএন/ ১৩ অক্টোবর ২০২৬







