গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলায় ১ হাজার ২৮৮ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

গোপালগঞ্জ, ১০ অক্টোবর-শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মাঠে মাঠে কাশফুলের দোলা আর প্রকৃতিজুড়ে স্নিগ্ধতার আবেশ। এরই মধ্যে এগিয়ে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলার মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দেবীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন প্রবেশপথ নির্মাণের কাজও পুরোদমে চলছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর গোপালগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১ হাজার ২৮৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫০টি, কাশিয়ানীতে ২২৬টি, কোটালীপাড়ায় ৩১৫টি, মুকসুদপুরে ৩০৭টি এবং টুঙ্গিপাড়ায় ৯০টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে। এ বছর ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে মর্ত্যে আসবেন মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গা। এরপর ১৫ অক্টোবর দেবীকে বোধনের মধ্য দিয়ে আহ্বান করা হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর অষ্টমী, ২০ অক্টোবর নবমী এবং ২১ অক্টোবর দশমীর বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। নৌকায় চড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন দেবী।
গোপালগঞ্জ শহরের সিকদারপাড়ার বাজার যুব সংঘের দুর্গামন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন প্রকাশ দাসসহ তাঁর সহকর্মীরা।
প্রহল্লাদ বিশ্বাস বলেন, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার পাঁচটি পূজামণ্ডপে পাঁচটি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছেন তাঁরা। একটি প্রতিমা তৈরি করতে ১০ থেকে ১১ দিন সময় লাগে। তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে আরও ছয়জন কারিগর কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে তাঁদের রাত জেগেও কাজ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিমা তৈরির পর প্রতিটিতে রংতুলির আঁচড় দিতে দুই দিন করে সময় লাগে। প্রতিমা ভালোভাবে না শুকিয়ে রং করার কাজ করলে তা সুন্দর হয় না। এ কারণে পূজা শুরুর ৮ থেকে ১০ দিন আগেই প্রতিমার গায়ে মাটি লাগানোর কাজ শেষ করতে হয়। যে প্রতিমা যত বেশি শুকানো হবে, সেটি তত বেশি সুন্দর দেখাবে।
প্রতিমাশিল্পী উত্তম পাল বলেন, রংতুলিসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে। কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। তারপরও বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছেন তিনি। গত ১৬ বছর ধরে মায়ের প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। এই পেশাকে আঁকড়েই বেঁচে থাকতে চান তিনি।
বাজার যুব সংঘের পূজামণ্ডপের পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য দিলীপ কুমার সাহা দীপু বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন প্রবেশপথের কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। তাঁরা ১২ অক্টোবরের মধ্যে পূজার সব প্রস্তুতি শেষ করবেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিন দেবীর আরাধনা করবেন তাঁরা।
গোপালগঞ্জ শহরের খাটরা কালীবাড়ি কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, মায়ের পূজা করে তাঁরা দুর্গতি নাশ, অসুরের বিনাশ এবং শুভবুদ্ধির উদয় কামনা করেন। তাঁদের প্রস্তুতি ভালো। সবার সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে পূজার আয়োজন ও উদযাপন করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।
পূজা উদযাপন ফ্রন্টের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক অশোক বিশ্বাস বলেন, তাঁরা পূজামণ্ডপগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করবেন।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, এ বছর গোপালগঞ্জে ১ হাজার ২৮৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে সরকার প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। গোপালগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।
এস এম/ ১০ অক্টোবর ২০২৬







