জাতীয়

নতুন বেতন কাঠামো ও বকেয়া পরিশোধ: ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণের পরিকল্পনা সরকারের

ঢাকা, ০৯ অক্টোবর – সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন এবং বকেয়াসহ বেতন পরিশোধের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর জন্য প্রয়োজনীয় বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে চলতি অক্টোবর মাসেই ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এক মাসে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা।

১. কেন নেওয়া হচ্ছে এত বিশাল অঙ্কের ঋণ?

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই ঋণের পুরো অর্থ নতুন ব্যয়ে খরচ হবে না। এর একটি বড় অংশ ব্যয় হবে সরকারের আগের ঋণ পরিশোধ ও সমন্বয়ে। মূলত বেশ কিছু কারণে সরকারের ঋণের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে:

নতুন বেতন কাঠামো: নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বকেয়াসহ বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রস্তুতি চলছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ব্যয়: এই খাতে সরকারের বর্তমান ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতি ও বিদেশি ঋণ: প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়া এবং বিদেশি ঋণ ছাড়ের তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ বেশি থাকায় চাপ তৈরি হয়েছে।

২. বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ঋণ সংগ্রহের পরিকল্পনা

সাধারণত ট্রেজারি বিল ও বন্ড নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় সরকার। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি রোববার বিল এবং মঙ্গলবার বন্ডের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়:

চলতি মাসের লক্ষ্য: অক্টোবরজুড়ে শুধু ট্রেজারি বিলের মাধ্যমেই ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং বন্ডের মাধ্যমে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী মাসের পূর্বাভাস: শুধু অক্টোবর নয়, সামনের মাসগুলোতেও এই চাহিদা থাকবে। আগামী নভেম্বর মাসে ৫৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বরে ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

আগের পরিসংখ্যান: এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার।

৩. ব্যাংক খাতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ব্যাংকব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণের স্থিতি ছুঁয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ঋণের পরিমাণ কমে ৯০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকায় নামলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারের ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৬ কোটি টাকা।

৪. বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পুরো বছরে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে এর আগের অর্থবছরেও (২০২৫-২৬) লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রকৃত ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। অর্থবছরের শুরুতেই ঋণের চাহিদা এমন ঊর্ধ্বমুখী থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখা সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এনএন/ ০৯ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language