বিচিত্রতা

টেকসই ফ্যাশনের বিস্ময় বালক ম্যাক্স আলেকজান্ডার: ১০ বছর বয়সেই চারবার গিনেস রেকর্ড!

ফ্যাশন মানেই কি শুধু নতুন পোশাক, রং আর নানা নকশার খেলা? ক্যালিফোর্নিয়ার ১০ বছর বয়সি খুদে ডিজাইনার ম্যাক্স আলেকজান্ডার এই ধারণাকে বদলে দিয়ে ফ্যাশন দুনিয়ায় যোগ করেছে পরিবেশ সচেতনতার এক নতুন বার্তা। পোশাক নকশা থেকে শুরু করে কাপড়ের সংগ্রহ তৈরি—সবখানেই এখন তার অভিনব মুন্সিয়ানা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইতিমধ্যেই চারটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়া এই খুদে প্রতিভা সম্প্রতি তাক লাগিয়ে দিয়েছে টেকসই কাপড়ের নিজস্ব সংগ্রহ প্রকাশ ও রেকর্ড গড়ে।

১. সর্বকনিষ্ঠ ডিজাইনার হিসেবে নিজস্ব ফ্যাব্রিক লাইন ও রেকর্ড

গত ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নিজের প্রথম ফ্যাব্রিক সংগ্রহ প্রকাশ করে ম্যাক্স। মড ফ্যাব্রিকসের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই সংগ্রহে রয়েছে বিসিআই কটন, ইউরোপীয় ফ্ল্যাক্স লিনেন, ইকোভারো ভিসকস ও পুনর্ব্যবহৃত পলিয়েস্টার ফক্স ফারের মতো ১৫ ধরনের টেকসই উপাদান। এর মাধ্যমে নিজস্ব ফ্যাব্রিক লাইন প্রকাশ করা সবচেয়ে কম বয়সী ডিজাইনার হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ে সে।

ম্যাক্সের মতে, টেকসই ফ্যাশন কেবল উপকরণ নির্বাচনের বিষয় নয়, বরং দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন এনে পৃথিবীর প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার একটি উপায়।

২. মাত্র ১০ সেকেন্ডে সেলাই মেশিনে সুতা পরানোর রেকর্ড

নিউইয়র্কের ওই অনুষ্ঠানে ফ্যাব্রিক সংগ্রহের পাশাপাশি নিজের আরেকটি চমৎকার দক্ষতার প্রমাণ দেয় ম্যাক্স। মাত্র ১০ দশমিক ১৬ সেকেন্ডে একটি সেলাই মেশিনে সুতা পরিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে সে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিচারক রেকর্ডটি নিশ্চিত করে দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্যে তার হাতে নতুন সনদ তুলে দেন।

৩. চার বছর বয়স থেকে শুরু ও হলিউড তারকাদের নজর কাড়া

খুদে এই ডিজাইনারের সাফল্য একদিনে আসেনি। মাত্র চার বছর বয়সে পোশাক নকশা ও সেলাইয়ের প্রতি তার অনুরাগ তৈরি হয়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি:

প্রথম রেকর্ড: ২০২৩ সালের নভেম্বরে রানওয়ে শো ডিজাইন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হিসেবে প্রথম গিনেস রেকর্ড গড়ে সে।

প্যারিস ফ্যাশন উইক: ২০২৬ সালের মার্চে প্যারিস ফ্যাশন উইকে প্রায় ৯০ শতাংশ টেকসই উপাদান দিয়ে তৈরি সংগ্রহ প্রদর্শন করে ইতিহাস গড়ে।

তারকাখ্যাতি: ম্যাক্সের তৈরি পোশাক ইতিমধ্যে পরেছেন হলিউড অভিনেত্রী শ্যারন স্টোন ও ডেবরা মেসিংয়ের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। এছাড়া ২০২৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ ‘টাইম ১০০ ক্রিয়েটরস’ তালিকাতেও জায়গা পেয়েছে তার নাম।

ফ্যাশনশিল্পে ম্যাক্সের এই পথচলা বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, সৃজনশীলতার সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতাকে যুক্ত করতে বয়স কখনো বাধা হতে পারে না। বর্তমানে মড ফ্যাব্রিকসের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে এই খুদে তারকার তৈরি নতুন ফ্যাব্রিক সংগ্রহ।

এনএন/ ০৯ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language