মধ্যপ্রাচ্য

সৌদির ২ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের রকেট-ড্রোন তাণ্ডব, নারীসহ ৩ বেসামরিক নিহত

রিয়াদ, ০৮ অক্টোবর – মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে যুক্ত হলো নতুন ও ভয়াবহ মাত্রা। সৌদি আরবের অত্যন্ত সুরক্ষিত ও ব্যস্ত দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের আকস্মিক রক্তক্ষয়ী ড্রোন ও মিসাইল হামলায় কেঁপে উঠেছে পুরো দেশ। ঘটনায় নারীসহ ৩ জন বিদেশী বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৩৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (GACA) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই হামলার ঘটনাগুলো ঘটে। বেসামরিক ও স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক স্থাপনায় চালানো এই বর্বরোচিত হামলায় সমগ্র অঞ্চলজুড়ে চরম উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

কোন বিমানবন্দরে কী ঘটেছে: ক্ষয়ক্ষতি ও আহতদের পরিসংখ্যান

আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (দক্ষিণাঞ্চল): নিহত ২ জন (মরক্কো ও আলজেরিয়ার নারী নাগরিক) এবং আহত ২৮ জন। রানওয়ে ও টার্মিনাল লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ছোঁড়ায় সরাসরি হতাহতের ঘটনা ঘটে। |

কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (রিয়াদ): নিহত ১ জন (সুদানের নাগরিক) |এবং আহত ৮ জন (৫ জনই সৌদি নাগরিক)  রাজধানীর মূল বিমানবন্দরে আঘাত হেনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়। |

সিকিউরিটি অ্যালার্টের কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ এখনো হতাহতদের নাম-পরিচয় এবং হামলার সুনির্দিষ্ট সময়ের সম্পূর্ণ তথ্য গোপন রেখেছে।

অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ: রানওয়েকে নিশানা বানানোর নেপথ্যে কোন সামরিক চাল?

সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকা বিমানবন্দরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে হুথি বিদ্রোহীরা কয়েকটি নির্দিষ্ট কৌশলগত বার্তা দিতে চাইছে:

সৌদির অর্থনীতি ও পর্যটন খাতকে বিপর্যস্ত করা: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বিশ্ববাসীকে বার্তা দেওয়াই লক্ষ্য যে সৌদি আরবের আকাশসীমা নিরাপদ নয়। এতে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হবে।

এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে পরাস্ত করা: রাজধানীর কিং খালিদ বিমানবন্দরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় আঘাত হানার অর্থ হলো নিজেদের ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তির ভয়াবহ আধুনিকায়ন ঘটিয়েছে হুথিরা, যা সৌদি এয়ার ডিফেন্স রেসপন্সের ওপর বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে।

যুদ্ধবিরতির দরকষাকষি: ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের জবাবে সরাসরি সৌদির প্রাণকেন্দ্রে আঘাত হেনে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করাই হুথিদের মূল উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও মার্কিন সতর্কতা

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই বর্বরোচিত ও প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)। তারা একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার ওপর প্রত্যক্ষ হামলা বলে অভিহিত করেছে।

উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের নিজ নাগরিকদের জন্য বিশেষ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি ও সতর্কতা জারি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আপাতত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইয়েমেনে হুথি লক্ষ্যবস্তু ও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চপ্যাডগুলোতে যেকোনো মুহূর্তে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে বড় ধরণের পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনএন/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language