শিক্ষকরা যেন প্রয়োজন ও প্রিয়জন হয়ে ওঠেন: বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ০৫ অক্টোবর – বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্তরের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি গভীর ও বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দানকালে তিনি বলেন, শিক্ষকরা কেবল প্রথাগত পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যদি শিক্ষার্থীদের ‘প্রয়োজন এবং প্রিয়জন’ হয়ে উঠতে পারেন, তবেই আধুনিক বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক সুনাগরিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে বিশেষ সম্মাননা পাওয়া গুণী শিক্ষকদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।
শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন: নতুন সিলেবাস ও ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে আসছে। প্রথাগত মুখস্থভিত্তিক শিক্ষার বদলে বাস্তবমুখী ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:
‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’: মুখস্থ বিদ্যার বদলে শিক্ষার্থীদের মনে ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’ প্রশ্ন জাগিয়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নতুন এই বইটি যুক্ত করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে অন্য ক্লাসেও প্রসারিত করা হবে।
নতুন সিলেবাস ও বই বিতরণ: এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন আধুনিকায়িত সিলেবাস অনুযায়ী বই হাতে পাচ্ছে।
‘একজন শিক্ষক, একটি ট্যাব’: প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প না ভেবে শিক্ষকের শক্তিতে রূপান্তর করতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক ও শিক্ষার্থীর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ: দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষকের সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
শিক্ষকতা পেশাকে ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির গণ্ডি থেকে বের করে দেশের সবচেয়ে মেধাবী মানুষের প্রথম পছন্দের পেশায় পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী দুটি সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেন:
১. জাতীয় দিবসে আমন্ত্রণের বাধ্যবাধকতা
স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে বঙ্গভবন ও গণভবনের রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রিতদের তালিকায় চলতি বছর থেকেই নীতিমালার ভিত্তিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের অন্তত একজন করে শিক্ষককে আমন্ত্রণের বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২. হয়রানিমুক্ত আর্থিক সুবিধা
অবসরপ্রাপ্ত কিংবা কর্মরত শিক্ষকদের বেতন ও পেনশন সংক্রান্ত অর্থ প্রাপ্তিতে আর কোনো দফতরে ঘোরার প্রয়োজন হবে না; যথাসময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংকের মাধ্যমেই তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
“জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে তা সমাজের কল্যাণের বদলে অকল্যাণ ডেকে আনে। সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও মানবিকতার মতো মূল্যবোধগুলোকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলেই রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।” — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এনএন/ ০৫ অক্টোবর ২০২৬







