হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্য থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

ওয়াশিংটন, ০৫ অক্টোবর-সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ডে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ওই ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা বি-১ বোমারু বিমানগুলো এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র বলেন, অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।
পেন্টাগনের ওই মুখপাত্র আরও বলেন, বি-১, বি-২ ও বি-৫২সহ মার্কিন বোমারু বহরের বিমানসেনারা যেকোনো সময় এবং যেকোনো জায়গা থেকে নির্ভুল দূরপাল্লার হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেই এসব বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করে অভিযান পরিচালনা করতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বোমারু বিমানগুলোর ট্রানজিট ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই সামরিক ঘাঁটিটি সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক স্থাপনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। দেশটির তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ওই কথিত চক্রান্তের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তেহরান এমন কোনো পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আটকের পরদিন অবশ্য কোনো অভিযোগ ছাড়াই ওই পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা তাদের ব্যবহৃত একটি ভ্যান থেকে পেট্রোল উদ্ধার করলেও কোনো বিস্ফোরক ডিভাইস পাননি। তবে যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তদন্ত এখনো চলছে।
এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পুলিশ জানায়, ফেয়ারফোর্ডে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে লন্ডন থেকে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দেন, কথিত ওই চক্রান্তে ইরানের ভূমিকা ছিল। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
এস এম/ ০৫ অক্টোবর ২০২৬







