এক হাজার ছাড়াল প্রাণহানি: ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৯ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৪১

ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর – দেশজুড়ে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছে না হামের তাণ্ডব। প্রতিদিনই বাড়ছে ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের মিছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৩৪১ জন সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামসংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর বিভাগীয় হিসাব
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশ করা তথ্যমতে, গত একদিনে মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগে।
- ঢাকা বিভাগ: ৪ জন
- চট্টগ্রাম বিভাগ: ২ জন
- সিলেট বিভাগ: ২ জন
- ময়মনসিংহ বিভাগ: ১ জন
সাড়ে ছয় মাসে মৃত্যুর পাহাড়: মোট প্রাণহানি ১০৯৬
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত সাড়ে ছয় মাসে সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ১,০৯৬ জনে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মোট ১,০৯৬ জন মৃতের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগী ছিলেন ১০১ জন। বাকি ৯৯৫ জনই চিকিৎসাধীন বা প্রাথমিক অবস্থায় হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। ল্যাব টেস্টের পরিধি এবং সচেতনতার অভাবেই উপসর্গযুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিশু ও পরিবারের সুরক্ষায় জরুরি করণীয়
হাম একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও সংক্রামক ব্যাধি। বাতাসের মাধ্যমে খুব সহজেই এই ভাইরাস ছড়ায়। তাই আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা:
১. তীব্র জ্বর, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
২. আক্রান্ত রোগীকে পরিবারের শিশু ও অন্যান্য সদস্যদের থেকে আলাদা ঘরে রাখুন।
৩. শিশুদের যথাসময়ে নিয়ম মেনে হামের টিকা (EPI Vaccine) দেওয়া নিশ্চিত করুন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত টিকাদান জোরদার ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে সচেতন জনসাধারণ।
এনএন/ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬







