কিংবদন্তি ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন আর নেই

ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর – বাংলা শিশুসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও মুক্তিকামী চেতনার ধারক ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আখতার হুসেন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
৮১ বছর বয়সী এই চিরসবুজ সাহিত্যিক দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানাবিধ জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শুক্রবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তার মৃত্যুর খবরে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কলম যখন হয়ে উঠেছিল মুক্তির অস্ত্র
১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর নাটোরের লালপুরের নুরুল্লাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করা আখতার হুসেন কেবল একজন শিশুসাহিত্যিকই ছিলেন না; তিনি ছিলেন আমাদের সংস্কৃতি আন্দোলনের বীর সেনানী। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। যুক্ত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের আন্দোলনের সঙ্গে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর লেখনী কাজ করেছিল গেরিলা অস্ত্রের মতো। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে অজিত রায়ের সুরে ও তিমির নন্দীর কণ্ঠে গীত তাঁর কালজয়ী গান **‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা/ আজ রুখবে তাদের কারা’** লাখো মুক্তিযোদ্ধাকে জয়ের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
ছয় দশকের সাহিত্য ও পেশাগত জীবন
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে শিশু-কিশোরদের জন্য অন্তহীন ছড়া, গল্প ও কিশোর উপন্যাস লিখেছেন তিনি। দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক প্রথম আলোসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতার পর ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথমা প্রকাশনের পাণ্ডুলিপি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। যার মধ্যে অন্যতম:
শিশু-কিশোরদের প্রিয় বই: ‘শিশু-বিশ্বকোষ’, ‘সমুদ্র অনেক বড়’, ‘রামধনুকের সাঁকো’, ‘উল্টোপাল্টা’, ‘হালচাল’, ‘আমার দুটো ডানা’, ‘ও হাওয়া ও হাওয়া’, ‘পাজি বেড়ালের শাস্তি’, ‘ফ্রিডম ফাইটার’ ইত্যাদি।
জাতীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমির এই ফেলো লাভ করেছেন অসংখ্য সম্মাননা:
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার
- অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার
- আলাওল সাহিত্য পুরস্কার
- মুক্তিযোদ্ধা কলম সৈনিক সম্মাননা স্মারক
- ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতি পদক ও বজলুর রহমান স্মৃতিপদক সহ একাধিক জাতীয় মর্যাদা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন, জানাজা ও দাফনের স্থান-সময় পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এক সাদাসিধে ও প্রচারবিমুখ জীবনের ইতি টানলেও তাঁর ছড়া আর গানের সুরে তিনি বেঁচে থাকবেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
এনএন/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







