জাতীয়

আদানি বিদ্যুৎ যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে বলে মন্তব্য রিজভীর

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর- ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়া এবং ভারতের আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘সুইচ’ রয়েছে। তাঁর দাবি, তারা যেকোনো সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। ‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’—এমন অভিযোগের প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংকট, ব্যাংক লোপাট এবং গুম-হত্যার অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। তবে দেশের বিরোধী দল ও পার্শ্ববর্তী একটি বিশেষ গোষ্ঠী নিয়মিত সরকারের সমালোচনা ও চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানো হলেও তাঁকে সাইডলাইনে বসানোর পরিকল্পনা ছিল। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের প্রধান হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাইডলাইনে না গিয়ে তারেক রহমান দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমালোচনা করে রিজভী অভিযোগ করেন, যেদিন প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তার পরদিনই প্রচার করা হয় যে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে। অথচ এর সুইচ ভারতের ঝাড়খণ্ডে রয়েছে এবং তারা যেকোনো সময় এটি বন্ধ ও চালু করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনের রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝতে কি পিএইচডি ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনাসহ ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ারও কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, বহু অপরাধী ভারতে পালিয়ে রয়েছে। এর আগে একটি ঘটনায় সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হলেও এখন ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে রিজভী দাবি করেন, এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; বরং এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল। তিনি জানান, সরকার বিকল্প হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার চেষ্টা করছে। চলমান সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং শেখ হাসিনার আমলের তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আড়াই থেকে তিন গুণ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, একটি পক্ষ ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে এবং মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানাতে চাইছে। তাদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, এ দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণ যেকোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহসভাপতি আলমগীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ড. কে এম আই মন্টি, আব্দুল হাকিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এস এম/ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language