মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের তেল দখলের স্পষ্ট ইঙ্গিত ট্রাম্পের! মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই কি শেষ হচ্ছে যুদ্ধ?

তেহরান, ১৪ সেপ্টেম্বর – ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের পরিধি বাড়ানো ও দেশটির তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রকাশ্য সংকেত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদাহরণ টেনে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তেহরানের তেল খাতের নিয়ন্ত্রণও যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে কূটনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি ‘আইরিশ ওপেন’ গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরানের সাথে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ ও বিশ্ব তেল বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল দিকগুলো

ভেনেজুয়েলা মডেলের বাস্তবায়ন: ভেনেজুয়েলা থেকে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র রাজস্ব আয় করে যুদ্ধের খরচ তুলে নিয়েছে, ইরানের ক্ষেত্রেও তেমন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বা ‘তেল রেখে দেওয়ার’ চিন্তাভাবনা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

যুদ্ধের মেয়াদকাল: ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ চলতি বছরেই শেষ হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Elections) ঠিক পরপরই বা তার আগেই যুদ্ধ থামতে পারে বলে আভাস দেন তিনি।

পেট্রোল ও তেলের বাজার: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ও যুদ্ধ সফলভাবে শেষ হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ নেমে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।

চুক্তির শর্ত: তেহরান শান্তি আলোচনার জন্য প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছে দাবি করে ট্রাম্প জানান, তিনি কেবল একটি ‘সঠিক ও শক্তিশালী’ চুক্তিতে সই করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়—এমন কোনো আপস তিনি মেনে নেবেন না।

আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে উদ্বেগ

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে। সৌদি আরবের কৌশলগত তেল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক হামলার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বাড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এনএন/ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language