জাতীয়

উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ: মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়াল ১ হাজার

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর – দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এর মাধ্যমে হামে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২ জনে। পরিস্থিতি ক্রমাগত আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় দেশজুড়ে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম’ থেকে পাঠানো হাম-সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে এই উদ্বেগের খবর নিশ্চিত করা হয়। বুলেটিন অনুযায়ী, সবশেষ মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে একজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন শিশু রয়েছে।

এক নজরে দেশে হাম পরিস্থিতির চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেশের বর্তমান সংক্রমণ ও মৃত্যুর একটি ভয়াবহ চিত্র ভেসে ওঠে:

মোট প্রাণহানি: নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯১২ জনসহ সর্বমোট ১,০১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগওয়ারি মৃত্যুতে শীর্ষে ঢাকা: নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে (৬৩ জন)। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগ সবার ওপরে (৪০৮ জন)। এরপরই সিলেটে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৫৭ জন।

সংক্রমণ ও শনাক্ত: দেশে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হাম রোগী ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৭ জন (গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৩৪ জন)।

হাসপাতালে ভর্তি: এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই ভর্তি হয়েছেন ৮৬৬ জন। তবে ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন।

অন্যান্য বিভাগে মৃত্যুর পরিসংখ্যান (উপসর্গসহ)

ঢাকা ও সিলেটের পর অন্য বিভাগগুলোতেও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক। পরিসংখ্যানে দেখা যায়— রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৬৮, বরিশালে ৫৭, খুলনায় ৩৮ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অতি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুদের নিয়মিত টিকা (এমআর টিকা) সময়মতো না দেওয়া এবং পুষ্টিহীনতার কারণেই এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে শিশুদের আইসোলেশনে রাখা এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

এনএন/ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language